বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৯ জুন

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ০৪:০৬ এএম

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১৯ জুন দিন ঠিক করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরান এ দিন ঠিক করেন। এদিন খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকায় তাকে আদালতে আনা হয়নি।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম। মামলায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতি হয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে চারদলীয়  জোট সরকারের স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী (মৃত), তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম (মৃত), কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার (মৃত), স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ  হোসেনসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরে এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর  হোসেন ও বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম তিন মাস স্থগিত করে। একই সঙ্গে মামলা দায়ের ও কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না জানতে চেয়ে সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ  দেয়। পরে সময়ে সময়ে মামলার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মামলাটিতে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন খালেদা জিয়া। একই বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে এ মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়। কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের কয়লা উত্তোলনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা সিএমসির সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করায় সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত