নীলফামারী ঠাকুরগাঁওয়ে ঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ০১:৩১ এএম

নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলায় গতকাল সকালে ঝড়ে প্রায় একশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। নীলফামারীতে ঝড়ে ঘর ও গাছচাপা পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত দুজন। এ সময় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ধান ও পাটক্ষেতের।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন, বাবুপাড়া, দাসপাড়া, রামগঞ্জ বাজার, জেলেপাড়া এবং ডোমার উপজেলা শহরের সাহাপাড়া, গোডাউনপাড়া বানোয়ারী মোড় এলাকার ওপর দিয়ে ওই ঝড় বয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, আকস্মিক তিন মিনিটের ঝড়ে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন গ্রামের দাসপাড়া, বাবুপাড়া, রামগঞ্জবাজার ও জেলেপাড়ায় ৫০টির অধিক টিনশেড ঘর বিধ্বস্ত হয়। এ সময় উপচে পড়ে অসংখ্য গাছপালা। ঘর ও গাছচাপা পড়ে এক নারীসহ দুজন আহত হন। ঝড় থামার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয় মাঠের পাকা ধান ও পাটক্ষেতের।

ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে কল্পনা রানী রায় (৫৫) ও গাছচাপায় অটোবাইকচালক গিয়াসউদ্দিন (৪৪) আহত হন। ওই গ্রামের বাবুপাড়ার বিকাশ রায় (২৮) জানান, ঝড়ের সময় গাছচাপায় তার দুটি ঘর বিধ্বস্ত হয়। এ সময় ঘরচাপায় তার মা কল্পনা রানী রায় আহত হন। অন্যদিকে রামগঞ্জ বাজারের দুর্গা মন্দিরের সামনের একটি গাছ উপড়ে পড়লে অটোবাইকচালক গিয়াসউদ্দিন আহত হন। তাকে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মছিরত আলী শাহ ফকির বলেন, ‘ঝড়ে সুখধন গ্রামের ৫০টির অধিক টিনশেড ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান ও পাটক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। রামগঞ্জ বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপচে পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একই সময়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ডোমার উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামে ২০টির অধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা।

ডোমার পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ শফিক-বিন মোর্শেদ বলেন, শুক্রবার সকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ে পৌর শহরের সাহাপাড়া, গোডাউনপাড়া, বানোয়ারীর মোড় এলাকায় বেশকিছু গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়ে। এ সময় এসব এলাকায় ২০টির অধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। সদর উপজেলার টুপামারী বন্দরপাড়া গ্রামের কৃষক সামসুদ্দোহা জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুকানপুকুরী ইউনিয়নের বাংরোড গ্রামের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। আকস্মিক চার থেকে পাঁচ মিনিটের ওই ঝড়ে গ্রামের ১৯টি পরিবারের কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়।

শুকানপুকুরী ইউপির চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে বাংরোড গ্রামে ১৯টি পরিবারের ২৫টি ঘর ভেঙে যায়। এর মধ্যে ৬টি পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত