ভাজা-পোড়া ছাড়া ইফতারিকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করেন অনেকে। সেই ভাজার তেল থেকে আবার শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প তৈরি করেছে সাওল হার্ট ফুড সেন্টার। রমজানে রাজধানীর বাংলামোটরে নৌবাহিনী ভবনের সামনে তারা বিক্রি করছে তেলবিহীন বিভিন্ন ইফতারসামগ্রী।
সাওলের ইফতারের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজু, আলুর চপ, বিফ টিক্কা, চিকেন গ্রিল, বিফ হালিম, সাসলিক, চিকেন চপ, মাছের চপ, মাছের চিপস, ডিম চপ, ছোলা, লাউ পায়েস। এসবের বাইরেও বিক্রি হচ্ছে লাল আটা, লাল চিড়া ও হাতে ভাজা সারমুক্ত মুড়ি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইফতারি কিনতে আসা প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি শুনেছি এখান তেল ছাড়া ইফতারি বিক্রয় হয়। তাই আজ ইফতারি নিতে আসলাম। তাছাড়া ডাক্তার তেল খেতে বারণ করেছেন।’
মগবাজার থেকে ইফতারি কিনতে আসা তানজির হাসান বলেন, ‘বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে। তেলজাতীয় খাবার খেলে শারীরিক নানা সমস্যা হয়। গত বছর এখান থেকে ইফতারি নিয়েছি। এবারও প্রতিদিন এখান থেকে নিচ্ছি। সাওলের ইফতারি স্বাস্থ্যসম্মত।’
সাওল ক্যাফে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সোহেল খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তৈলাক্ত খাবারের ওপর মানুষ খুব বিরক্ত। রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পাকস্থলী ফাঁকা থাকে। ইফতারে মাত্রাতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পেটের পীড়া, বমিসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমরা তেলকে বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় সব মসলা ব্যবহার করেই ইফতারি তৈরি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইফতারি আইটেমে ৪৪ পদ রয়েছে। চাহিদা থাকলেও প্রতিদিন মাত্র ৩০০ জনের বেশি ইফতারি তৈরি করা সম্ভব না। তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর থেকে আমাদের স্টলের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করব।’
সাওল হার্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহন রায়হান বলেন, ‘২০০৯ সালে প্রথম আমরা বিনা তেলে রান্না শুরু করি। তারপর মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত করি। তেলযুক্ত খাবার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ। এ থেকে মুক্তি দিতে বিনা তেলে রান্নাকে আমরা সামাজিক আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি। আমরা মানুষের ফুড কালচার বদলে দিতে চাই।’
