ডাইনোসর যুগের ছারপোকা

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ০৪:১৯ এএম

ছারপোকার নাম শোনেননি এমন মানুষের সংখ্যা হয়তো হাতেগোনা। রক্তচোষা এই প্রাণীটির দেশ বা মহাদেশ কিংবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সীমারেখা কিছু নেই বলেই বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তে, সব পরিবেশে পরিচিত একটি পতঙ্গ। ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি আদিকাল থেকে মানুষের বাস্তুসহচর। তবে গবেষকরা বলছেন, ছারপোকা শুধু আদিম মানুষ নয়, ছিল ডাইনোসরেরও সহচর। প্রায় সাড়ে ১১ কোটি বছর আগেও

পৃথিবীতে ঘুরে বেড়িয়েছে প্রাণীটি। তবে আগের গবেষণাগুলোতে পৃথিবীতে পাঁচ কোটি বছর আগে ছারপোকাদের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, ৩০ প্রজাতির ছারপোকার ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এরা প্রায় ১১৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ১১ কোটি বছর আগেও পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়িয়েছে।

নতুন এই গবেষণাটির অন্যতম গবেষক শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইক শিবজ্যোতি জানান, এই গবেষণায় প্রাথমিকভাবে পুরুষ ছারপোকাদের যৌন সক্ষমতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখনই তাদের বহুদিন ধরে টিকে থাকার রহস্যটি গবেষকদের সামনে উন্মোচিত হয়। গবেষণাটির প্রধান গবেষক ও নরওয়ের বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. স্টিফেন রথ বলেন, আমরা প্রথমে দেখি ছারপোকারা বাদুড়ের চেয়েও বেশি দিন ধরে পৃথিবীতে আছে। বিষয়টি আমদের বিস্মিত  করেছে। অথচ এতদিন সবাই বাদুড়কে ছারপোকার প্রথম পোষক হিসেবে মনে করত। তিনি আরও বলেন, এখন আমরা জানতে পেরেছি রক্তচোষা এই প্রাণীটি টি-রেক্স ডাইনোসরদের সময়েও ছিল। তবে আমরা নিশ্চিত নই এরা ডাইনোসরের রক্ত পান করত কিনা।

অধ্যাপক মাইক শিবজ্যোতি বলেন, এই আবিষ্কার যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে ছারপোকাদের মানিয়ে নেওয়ার রহস্যটি জানতে সহায়তা করবে। এছাড়া এদের নিয়ন্ত্রণ করতে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় তারও দিশা দেবে নতুন এই গবেষণা।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে শক্তিশালী কীটনাশক ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেনের ব্যাপক ব্যবহারে দুনিয়াজুড়েই ছারপোকার সংখ্যা কমেছিল। তবে এই শক্তিশালী কীটনাশকের বিরুদ্ধেও ছারপোকা জেনেটিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে বলেই আবারও ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এদের দমনে নতুন ও কার্যকর উপায় খুঁজে পাওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত