মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়ার সময় চট্টগ্রামে মা-মেয়েসহ চার রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি ট্রাভেল এজেন্সির এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।
গতকাল শুক্রবার তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে করে এই চারজনকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া চারজন হলোÑ সুরিয়া বেগম (৩৫), তার মেয়ে সাহিদা আক্তার (১৭) ও শিশু উম্মে রুমা এবং এনামুল্লাহ (১৬) ।
এসব রোহিঙ্গা নাগরিক মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার কুতুপালং এলাকায় ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া।
আটক জেয়াবুল হাসান (২২) নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের কুতুব ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্মকর্তা। জেয়াবুল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চূড়ামণি গ্রামের মৃত শামসুল আলমের ছেলে।
ওসি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া জানান, জেয়াবুলসহ একটি মানব পাচারকারী চক্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা বলে তাদের কুতপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। ঢাকায় নিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহের পর তাদের মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে পাঠানোর কথা ছিল। তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে অবস্থান নেওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জেয়াবুলকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় রেলওয়ে থানায় মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া চারজনকে আদালতে হাজির করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
