রাস্তায় ধান রেখে কৃষকের বিক্ষোভ

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ০২:১৭ এএম

ধানের যৌক্তিক মূল্য না পাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন কৃষকরা। গতকাল শনিবার গাইবান্ধায় সড়কে ধানের বস্তা রেখে অবরোধ করেন তারা। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে সুনামগঞ্জে। রাজশাহীর পবা ও শরীয়তপুরের গোসাঁইরহাটে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের ধান কেটে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

গাইবান্ধা : ‘ধানের লাভজনক দাম দাও, কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে গতকাল দুপুরে গাইবান্ধা-ধর্মপুর-সুন্দ     রগঞ্জ সড়কে সদর উপজেলার দারিয়াপুর বাজারে রাস্তায় ধানের বস্তা রেখে আধা ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন দুই শতাধিক কৃষক। সরকার-নির্ধারিত মূল্যে প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র চালু করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা সভাপতি সাদেকুল ইসলাম, দারিয়াপুর অঞ্চল কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল গণি রিজন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘সরকারের দেওয়া দামে কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারে না। শাসক দলের নেতাদের কাছে ধানের স্লিপ দেওয়া হয়।’ অবিলম্বে প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবি জানান তারা।

থেকে সিন্ডিকেট-ফড়িয়ামুক্ত পরিবেশে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কৃষক সংহতি নামের একটি সংগঠন। গতকাল দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ারে এ কর্মসূচি হয়।

বক্তারা বলেন, ‘২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সুনামগঞ্জে ১৩ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে মাত্র ৬ হাজার ৫০৮ মেট্রিক টন ধান নেবে সরকার; যা উৎপাদনের তুলনায় অতি নগণ্য। জেলায় কৃষক-পরিবারপ্রতি পড়বে মাত্র সাড়ে ১৮ কেজি ধান, যার আর্থিক মূল্য মাত্র ৪৮৩ টাকা। এটা কৃষকদের প্রতি প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়।’ কৃষক সংহতির নেতা শামস শামীমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আইনজীবী লেখক হোসেন তওফিক চৌধুরী, লেখক সুখেন্দু সেন হারু, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, অ্যাডভোকেট রুহুল তুহিন, সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ দে, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক এনাম আহমেদ, সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

রাজশাহী : জেলার পবা উপজেলার বিলনেপালপাড়ায় এক বর্গাচাষির জমির ধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা এ ধান কেটে দেন। টাকার অভাবে ধান কাটাতে পারছিলেন না বর্গাচাষী কামরুজ্জামান। এই খবর পেরে ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পবা উপজেলার নেতা-কর্মীরা বিনা পারিশ্রমিকে ওই ধান কেটে দেন।

শরীয়তপুর : জেলার গোসাঁইরহাটে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দরিদ্র কৃষকের পাকা ধান স্বেচ্ছায় কেটে দেওয়া হচ্ছে। এতে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন স্কুলের ৫০ জন ছাত্র। স্বেচ্ছাশ্রমে ধানকাটার মূল উদ্যোক্তা সরকারি শামসুর রহমান কলেজের শিক্ষার্থী মো. আনিছুর রহমান লোটন জানান, প্রথম দিন দুই বিঘা জমির ধান কাটেন এবং যত দিন জমিতে পাকা ধান রয়েছে ততদিন এ কার্যক্রম চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত