ছোটবেলা থেকে গেম খেলার প্রচণ্ড নেশা ছিল সোহেল মুনের। পরে ভর্তি হন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ভর্তির পর গেম বানানোর প্রতি ঝোঁক চলে আসে। দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন গেম ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট হাতে নিয়ে ব্যর্থ হন।
একবার চেষ্টা করেই ব্যর্থতা স্বীকার না করে সামনে এগিয়ে যেতে চান সোহেল মুন। সেসময় বন্ধু মেজবাহ উর রহমানের পরামর্শে আরেক বন্ধু খালিদকে সাথে নিয়ে তিন বন্ধু মিলে স্টুডিও থান্ডারবোল্ট নামে গেম ডেভেলপিং স্টুডিও দেবার প্ল্যান করেন।
২০১৮ সালের ২৫ মে পথচলা শুরু। পড়াশোনার পাশাপাশি গেম ডেভেলপমেন্টে সময় দিতে কষ্ট হতো। কখনো সারা রাত জেগে স্টুডিওতে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকাল ৮ টার ক্লাস করতে হয়েছে। আবার বিকেল থেকে কাজ করেছেন সারা রাত।
শুরুর দিকে ছোট ছোট গেম ডেভেলপের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করেন। প্রথম সফলতা আসে টেম্পেল রানের অনুকরণে রান রবো রান’ মাধ্যমে। এরপরে গল্পটা সামনে এগিয়ে যাবার। পোল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভার্টাস স্টুডিও আয়োজিত ভার্টাস গেম জ্যামে টিম স্টুডিও থান্ডারবোল্ট দ্যা মেজ ওয়াকার গেমের জন্য ১৬তম স্থান অর্জন করে। থার্ড পারসন শুটিং গেম কোড ওয়ার্ড জিরোর কাজ শুরু করেও ফান্ডিং এর অভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ফান্ডিং জোগাড় করতে তিন বন্ধু মিলে অংশ নেন জাতীয় স্টার্টআপ ক্যাম্পে। তাদের মতো সারা দেশের ৪০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ টি তরুণ উদ্যোক্তা দলের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ।
বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হলেও মূল বিপত্তি বাঁধে জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নেওয়া নিয়ে। দলের একজন অসুস্থ হয়ে পরে আর অন্যজন পরীক্ষা চলার কারণে জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাধ্য হয়ে মুনকে একাই জাতীয় ক্যাম্পে অংশ নিতে হয়।
শেষ সময়ে বানানো প্রেজেন্টেশনে আনতে হয় পরিবর্তন। কিন্তু জাতীয় ক্যাম্পের সেমিনারে উদ্যোগ, উদ্ভাবনী ভাবনাকে পণ্যে রূপান্তর এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব পরামর্শ প্রদান করা হয় সেগুলোকে মোটামুটি গুছিয়ে পিচিং করে শীর্ষ ৩০ স্টার্টআপে জায়গা করে নেয় টিম থান্ডারবোল্ট।
ফাইনালে বাংলাদেশ মিলিটারিকে আরো দক্ষ করে তুলতে আধুনিক প্রশিক্ষণের উদ্ভাবনী চিন্তা শীর্ষ দশ উদ্ভাবনী ধারণার মধ্যে জায়গা করে নেয়। গত ১৬ তারিখে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে দেশ সেরা দশ উদ্ভাবনী ধারণা নির্বাচিত এবং তাদের সকলের হাতে দশ লাখ টাকা প্রদান করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
সোহেল মুন জানান, দেশেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের গেম নির্মাণ হবে, তেমন ভাবনা থেকেই তৈরি করেছিলাম স্টুডিও থান্ডারবোল্ট। পুরস্কার এই অর্থ পেয়ে আমাদের লক্ষ্য পূরণ আরও সহজ হয়ে গেল।