ধানের মূল্য ও শ্রমিকের বেতন দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ১২:২৫ এএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার নিজেদের লোকদের টাকা লুটের সুযোগ করে দিতেই ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করেছেন। তাই ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আগামী ২১ মে মঙ্গলবার বিএনপি’র উদ্যোগে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এছাড়া ২৩ মে বৃহস্পতিবার সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটে-বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

রোববার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ থাকলেও ধানের দাম বাড়ানোর সুযোগ আপাতত সরকারের হাতে নেই।’

খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, আগের রাতের ভোটের সরকারের মন্ত্রীর কাছ থেকে এরকম গণবিরোধী বক্তব্য ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকরীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকায় টাঙ্গাইলের কালিহাতি, জয়পুরহাট, নেত্রকোণাসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষক পাকা ধান খেতে আগুন দিচ্ছে, পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। দেশের পুঁজিপতিরা বিশাল ঋণ মওকুফ পাচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে খাচ্ছে, মেগা প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে হরিলুট চলছে অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা অসহায় কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে না।

রিজভী বলেন, সরকার প্রতি মণ ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকি টাকা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা, মিল মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সরকারের টনক নড়ছে না।

তিনি বলেন, কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা, দেশের প্রাণ। কৃষকদের রক্ষা না করলে বাংলাদেশে অভিশাপ নেমে আসবে। কৃষকেরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। পৃথিবীর সকল দেশে কৃষকেরা উৎপাদন করে লাভ করে, আর আমাদের দেশের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত