পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়নি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ০১:৫০ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেনি বাংলাদেশ। উল্টো পাকিস্তান আমাদের লোকদের ভিসা দিচ্ছে না। তবে ভিসা ইস্যুতে বিলম্ব হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেছেন, উদ্ভূত সমস্যা ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষের আরোপিত।

‘পাকিস্তানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে বাংলাদেশ’ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার

তার দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ বা অন্য কোনো কারণে ব্যক্তিবিশেষে বাংলাদেশ তাদের ভিসা নাও দিতে পারে। তবে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছাপা হওয়ায় আমরা এর প্রতিবাদ পাঠাব।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অফিসারকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, এই প্রশ্নে আবদুল মোমেন বলেন, এটি ঠিক, আমাদের কিছু অফিসারকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে কনস্যুলার সেকশনের যারা ভিসা দেয়, তাদেরই দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কাজ করবে কে?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু কারণে তা বিলম্বিত হতে পারে, এটা বিশ্বব্যাপী সাধারণ ঘটনা। ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে জনশক্তির স্বল্পতা রয়েছে, যা ভিসা প্রদান প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। এর কারণ হলো, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদে নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ভিসা কাউন্সিলরের ভিসা প্রদান বিলম্বিত করছে। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ ভিসা ইস্যুর কাজে সাময়িকভাবে নিয়োজিত অফিসারের ভিসা নবায়ন করছে না। আবদুল মোমেন বলেন, এই সমস্যায় ইসলামাবাদ ফেলেছে আমাদের। সেখানে আমাদের জনশক্তির সমস্যা না মিটলে আমরা কীভাবে ভিসা ইস্যু করব।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো প্রকার ঝামেলায় যেতে চায় না। আমরা তাদের সঙ্গে আগেও যোগাযোগ করেছি এবং এখনো যোগাযোগ রাখছি আমাদের কূটনীতিকদের ভিসা ইস্যু সমস্যার সমাধানে। ঢাকায় নিয়োগকৃত পাকিস্তানি দূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি নাÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কারণে এর আগে বাংলাদেশ ইসলামাবাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

এটাকে কূটনৈতিক অঙ্গনের স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা নতুন প্রস্তাব দিলে আমরা অবশ্যই তা বিবেচনা করব। এক বছরের বেশি সময় ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনে কোনো দূত নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর ৬ নভেম্বরের পর পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভিসা কাউন্সেলর দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরেন। নতুন কর্মকর্তা যোগ না দেওয়ায় গত বছর নভেম্বর থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ইকবাল হোসেন প্রেস কাউন্সেলরের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত ভিসা কাউন্সেলরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ বছর ৩০ মার্চ ঢাকায় ফেরার কথা ছিল ইকবাল হোসেনের। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিজের ও মেয়ের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে গত ৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন প্রেস কাউন্সেলর। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে ঢাকায় তার স্ত্রী ও ছেলে ভিসার আবেদন করেছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনে। চার মাসেও বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ১৩ মে থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন। সোমবার বিকেলে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুতনিক নিউজ দিল্লি থেকে করা এক খবরে বলেছে, কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ধ করেছে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত