বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার আশা টিপু মুনশির চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চুক্তি

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ১১:৩১ পিএম

মধ্য ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। গতকাল বুধবার দেশটির রাজধানী প্রাগে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও চেক প্রজাতন্ত্রের পক্ষে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী কারেল হাবলিক চুক্তিতে সই করেছেন।

দুই দেশের মধ্যে যৌথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আবদুল লতিফ বকসী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, রপ্তানি করে তার চেয়ে বেশি। দেশটিতে মূলত বাংলাদেশ ওভেন ও নিটওয়্যার রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করে জীবন্ত প্রাণী ও শিল্পের যন্ত্রপাতি।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে উভয় দেশের মন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। চেক প্রজাতন্ত্রের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নের প্রশংসা করে সম্পর্ক আরও জোরালো করার ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পাটজাত পণ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ দেখান কারেল হাবলিক।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উদারনীতি গ্রহণ করেছে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০ বিশেষ অর্থনেতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে শিল্প স্থাপন করে উৎপাদিত পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি করতে পারবেন চেক বিনিয়োগকারীরা।

সস্তা শ্রমশক্তির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। চেক বিনিয়োগকারীরা তাদের কাজে লাগাতে পারবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারও বেশ বড়। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিনিয়োগ করলে চেক বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারবেন।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী সেøাভেনিয়া সফর করেন এবং ‘ওয়ার্ল্ড বি ডে’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি সেøাভেনিয়ার কৃষি, বন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলেকজেন্ডার পিভেকের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে মতবিনিময় করেন। মন্ত্রী সেøাভেনিয়ার পোর্ট অব কোপার পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে বন্দরটি ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত