এবার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার ভারত। ব্যাটিং এবং বোলিংÑ দুই বিভাগেই তারা শক্তিশালী। ফিল্ডিংটাও দারুণ। দলে বিশ্বমানের অলরাউন্ডার আছে। ম্যাচ উইনারেরও অভাব নেই। আছেন বিরাট কোহলির মতো ব্যাটসম্যানÑ যিনি একা ম্যাচ বের করার ক্ষমতা রাখেন। রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ফিনিশার। জাসপ্রিত বুমরাহর মতো পেস সেনসেশন। মোহাম্মদ শামির মতো সুইং বোলার। কুলদিপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালের মতো স্পিন জুটি। শচীন টেন্ডুলকার মনে করছেন, এতকিছুর পরও বিশ্বকাপ জিততে হলে একসঙ্গে কয়েকজনকে জ্বলে উঠতে হবে। শুধু কোহলি একা খেললেই হবে না।
একসময় ভারত শচীননির্ভর দল ছিল। সেই পরিস্থিতি বহুদিন আগে থেকেই নেই। কিন্তু না থাকলেও এখনো ভারতীয় ব্যাটিং আবর্তিত হয় কোহলিকে কেন্দ্র করে। তিনি ব্যর্থ হলে ভুগতে হয় দলকে। পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শচীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ১৯৯৬, ’৯৯ এবং ২০০৩ সালে তিনি দলের জন্য যে ভূমিকা রেখেছিলেন এবার কোহলিও সেভাবে দলকে টানতে পারবে কি না? শচীন বলেছেন, ‘আমার মনে হয় প্রতি ম্যাচেই আপনি দুয়েকজন পারফরমার পেয়ে যাবেন। কিন্তু দলের সাহায্য ছাড়া আপনি বেশি কিছু করতে পারবেন না। একজন ব্যক্তির ওপর ভর করে টুর্নামেন্ট জেতা যায় না। সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অন্যদের এগিয়ে আসতে হবে। যদি তা না হয় তাহলে হতাশ (বিশ্বকাপে) হতে হবে।’ বিশ্বকাপে ভারতের চার নম্বর পজিশনটা এখনো স্থিতিশীল না হওয়ায় উদ্বিগ্ন শচীন। বলেছেন, ‘কাজটা করতে পারবে এমন ব্যাটসম্যান আমাদের আছে বলে মনে করি। চার নম্বর স্রেফ একটা নাম্বার ছাড়া কিছু নয়। শুধু মানিয়ে নিতে হবে। আমি অবশ্য চার নম্বর পজিশন নিয়ে কোনো সমস্যা দেখি না। আমাদের ছেলেরা প্রচুর ক্রিকেট খেলেছে। তারা চার, ছয় কিংবা আট নম্বর পজিশনের ভূমিকা নিয়ে সচেতন। পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতাই আসল ব্যাপার।’
শোনা যাচ্ছে, এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে রানের সুনামি হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সদ্য শেষ হওয়া পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বোঝা গেছে তা। দুপক্ষই প্রচুর রান তুলেছে। নটিংহ্যামের উইকেটে তো ২০১৬ সালে ৪৮১ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। সেই মাঠে এবার ৫০০ রান হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। উইকেট ব্যাটিংসহায়ক হওয়ায় বোলাররা হতাশ হচ্ছেন। ফলে ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ওয়ানডে ক্রিকেট। এই ব্যাপারটা মোটেই ভালো লাগছে না শচীনের। তিনি মনে করেন, ইংল্যান্ডের ফ্লাট উইকেট বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন বয়ে আনবে। এখন আর একদিনের ক্রিকেটে রিভার্স সুইং দেখা যায় না বলেও আক্ষেপ করেছেন শচীন।
