দেশের বাইরে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ০২:৩১ এএম

বিএনপির অনেক নেতা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শুরু থেকে বিদেশে রয়েছেন। গত ১০ বছরে এ সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। প্রবাস জীবনে তাদের কারও কারও সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা থাকলেও বাকিরা আছেন একা একাই। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ভয়ে তারা দেশ থেকে পালিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায়। সেখানেই তারা রোজা ও ঈদ করছেন; এবারও করবেন।

বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানান, ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর বিএনপির অনেক নেতা গ্রেপ্তার এড়াতে বিদেশে চলে যান। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের আগে কিছু  নেতা দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশও নেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতাদের নামে ওয়ান-ইলেভেনের সময় করা মামলাগুলোর বিচারকাজ অব্যাহত থাকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে করা মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়। আর বিএনপি নেতাদের নামে নতুন নতুন মামলা দেওয়া শুরু হয়। এ কারণেই দেশ ছাড়তে শুরু করেন নির্বাচনের আগে ফিরে আসা বিএনপির কিছু নেতা এবং নতুন নতুন মামলায় আসামি হওয়া নেতারা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্তির পর সেদিনই সপরিবারে যুক্তরাজ্য যান। এখনো তিনি সেখানে রয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব ড. কামাল সিদ্দিকী, মিডিয়া উইংয়ের সদস্য আশিক ইসলাম ও মুশফিকুল ফজল আনসারী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা শামসুল আলম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ড. উসমান ফারুক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, এর বাইরেও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলমসহ চারদলীয় জোট সরকার আমলের একাধিক সরকারি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, মালয়েশিয়ায় আছেন জোট সরকারের জ¦ালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ছোট ভাই মির্জা খোকন এবং হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন। থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন বিএনপির তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহ শরীফ কামাল তাজ, সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ভারতে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। দুবাই আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী মোসাদ্দেক আলী ফালু। সৌদি আরবে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, কানাডা আছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার পারভেজ আহমেদ।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওয়ান-ইলেভেনে এসেছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সে সময় অনেক নেতাকে আটক করা হয়। এ কারণে তখন অনেকে দেশ ছেড়ে প্রবাসে চলে যান। নির্বাচনের তারিখ হলে তাদের অনেকেই দেশে আসেন। নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাদের দলের নেতাদের নামে করা মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু বিএনপি নেতাদের নামে করা মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়নি। বরং নতুন নতুন মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদের হয়রানি করা হয়। তাই দেশে নিরাপদ বোধ না করে তারা বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সরকার নেতাদের নামে মামলা দিলেও কাউকে গুম করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইলিয়াস আলীসহ অনেক নেতাকে গুম করে; কাউকে কাউকে হত্যা করে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতারা রাজনীতি তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনযাপনও করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে সামর্থ্যবান নেতারা বাইরে চলে যান।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে এখন স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। পুরান স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই বলেছেন, তার চেয়ে বড় স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার। বিরোধী মত ও পথের নেতাদের ওপর চরম নির্যাতন চালানোর কারণে তারা দেশে নিরাপদ বোধ করেননি। এ কারণে যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিদেশ চলে গেছেন। এখনো কেউ কেউ যাচ্ছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে এমনটা কখনো দেখা যায়নি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এভাবে নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত