রিজার্ভ চুরি

রিজাল ব্যাংকের ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ০২:৫২ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা করেছে ফিলিপাইনের আইন মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাক করে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তাদের মুখ্য ভূমিকা ছিল বলে এতে অভিযোগ করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়েরার গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন রিটেইল ব্যাংকিং গ্রুপের নির্বাহী পল ভিক্টর তান, ন্যাশনাল সেলস ডিরেক্টর ইসমাইল রায়েছ, আঞ্চলিক সেলস ডিরেক্টর ব্রিগিত্তি ক্যাপিনা, কাস্টমার সার্ভিসের প্রধান রোমুলদু আগারাডো ও সিনিয়র কাস্টমার রিলেশনশিপ অ্যাঙ্গেলা রুথ তোরেস।

দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের মুখপাত্র মার্ক পেরেতে বলেছেন, এই পাঁচ কর্মকর্তা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে অন্যদের হ্যাকিংয়ের অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে কারাদণ্ড দিয়েছে ফিলিপাইনের আদালত। রায়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) থাকা বাংলাদেশের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এ অর্থ ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে সরানো হয়েছিল। এ অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার আটকানো যায় এবং তা ফেরতও পাওয়া যায়। তবে ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জুয়ার টেবিল ঘুরে হাতবদল হয়। পরে ওই অর্থের দেড় কোটি ডলার জুয়ার আসর থেকে দেশটির সরকার তুলে ফেরত দিলেও বাকি অর্থ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মামলায় ফিলিপাইনের ম্যানিলাভিত্তিক আরসিবিসিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামি করা হয়েছে চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থের সুবিধাভোগী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও। মামলায় আসামিদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া অর্থসহ মামলার খরচ দাবি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত