নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টিতে নেতৃত্ব নিয়ে আস্থার সংকটের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা (ব্রেক্সিট) নিয়ে নতুন পরিকল্পনা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ইইউ থেকে বের হওয়ার চুক্তির বিলে পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি। এর মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে আরেকবার ভোটাভুটির জন্য পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) প্রতিশ্রুতির বিষয়টি রয়েছে। তবে ছায়া ব্রেক্সিট মন্ত্রী স্যার কির স্টার্মার বলেছেন, এই প্রস্তাব ‘খুবই দুর্বল’।
এদিকে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উপস্থাপনের আগেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরে যেতে বাধ্য হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যম। দ্য মিরর ‘মের শেষ জুনে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, পদত্যাগের সময় ঠিক করতে বাধ্য করা হয় মেকে। ওই সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। দ্য টেলিগ্রাফের শিরোনাম ছিল ‘ধূসর সুট পরা টরি (কনজারভেটিভ পার্টি) সদস্যরা অশ্রুসিক্ত মেকে বলেছেন, তার সময় শেষ’। ওই সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্যেষ্ঠ এমপিদের সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এমপিরা গ্রীষ্মের ছুটির আগেই প্রধানমন্ত্রীর বদল চেয়েছেন।
দ্য টাইমসের খবরে বলা হয়, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন। অন্যদিকে মে এমপিদের কাছে সময় চেয়েছেন। উত্তপ্ত ও আবেগঘন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার সরে যাওয়ার সময় ঠিক করা ঠেকিয়েছেন। অন্যদিকে ডেইলি মেইল জানায়, ‘বরিস হাত উঁচিয়েছেন’। বরিসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছার বিষয়ে তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমি এর জন্য যাচ্ছি।’
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল বুধবার বিধি পরিবর্তন করে টেরিজার নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা ভোটের আয়োজন করতে দলের কর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানোর কথা ছিল কনজারভেটিভ পার্টির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার। পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। তিনি টেরিজার বিলের বিস্তারিত নিয়ে ভাবতে এমপিদের আরেকটু সময় নেওয়া ও তাদের অবস্থান বদলানোর আহ্বান জানান।
টেরিজার বিলে পরিবর্তনের রূপরেখা গতকাল প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও আলোচিত ব্রেক্সিটপন্থি অ্যান্ড্রে লিডসম বলেন, তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে আইনের বিষয়টি দেখছেন এবং নিশ্চিত করছেন যে, এর মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করা যাবে।
যুক্তরাজ্যের এমপিরা ইতিপূর্বে তিনবার ইইউর সঙ্গে দরকষাকষি করা বেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ছাড়া বিরোধী দল লেবার পার্টির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আপসচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। গত মঙ্গলবার আপসে ঠিক করা ব্রেক্সিট কিংবা ব্রেক্সিট না হওয়ার ঝুঁকি গ্রহণে এমপিদের ‘শেষ সুযোগের’ কথা বলেন টেরিজা। কিন্তু নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন এমপি টেরিজার পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তাদের একজন নাইজেল ইভান্স। তিনি নিয়ম পরিবর্তন করে মে’র নেতৃত্ব নিয়ে দ্রুত অনাস্থা ভোটের আয়োজন করতে কনজারভেটিভ প্রাইভেট মেম্বারস কমিটির (১৯২২ কমিটি) নেতাদের তাগিদের পরিকল্পনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মে গত বছরের ডিসেম্বরে অনাস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার পর বর্তমান বিধি অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে একই ভোটের মুখোমুখি হবেন না তিনি। ১৯২২ কমিটিও বিধি পরিবর্তনের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে মধ্য ডানপন্থিদের ওয়েবসাইট কনজারভেটিভ হোম গতকাল বুধবারের পর প্রধানমন্ত্রী মে তার পদে থাকলে আজ বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট না দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
মে’র পরিকল্পনার বিপক্ষে কথা বলেছেন লেবার পার্টির আইনপ্রণেতারাও। স্যার কির বলেছেন, শুল্ক পরিকল্পনার ওপর ভোট ও পরবর্তী গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন মে। বিলের সংশোধন আনার মধ্য দিয়ে এগুলো এমনিতেই করতে পারবেন এমপিরা। তিনি বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এটি (মের প্রস্তাব) নীতিগত আপস নয়; এর মধ্য দিয়ে বলা হচ্ছে, আপনারা চাইলে এসব বিষয়ে ভোটাভুটি করতে পারেন।’ ছায়া ব্রেক্সিট মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, প্রধানমন্ত্রীর উচিত এখন পরাজয় স্বীকার করা।’
বিবিসির রাজনীতিবিষয়ক সম্পাদক লরা কুসেনবার্গ বলেন, সরকার বিল উত্থাপনে দেরি করার চেষ্টা করলে ব্যাংক ছুটির সপ্তাহান্ত শেষে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ কিছু কনজারভেটিভ নেতার অভিমত, পরাজয় ও অপমান থেকে বাঁচতে ব্রেক্সিট চুক্তির বিল থেকে সরে আসা উচিত মে’র।
