কৃষকের শ্রমে-ঘামে আমাদের দেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কৃষি খাতের নানা সমস্যার কারণে দেশের অনেক অঞ্চলের বহু কৃষকই এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ফসল ফলিয়েও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক। সম্প্রতি দেশের কয়েকটি স্থানে ধানের দাম ধানকাটা শ্রমিকের মজুরির চেয়ে কম হওয়ায় রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে ক্ষেতের পাকা ধানে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন হতাশ কৃষক। অথচ দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন সত্ত্বেও একই সময়ে লাখ লাখ টন ধান আমদানি করা হলো। এ নিয়ে দেশে তোলপাড় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সে আগুন জ্বলল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হলো না। এরপর দেখা গেল শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং কোনো কোনো স্থানে সরকারি কর্মকর্তা আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা ক্ষেতের ধান কাটতে কৃষকের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। এই সহমর্মিতা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়Ñ এই পথে কি কোনো সমাধান হবে? কোনো ফড়িয়া বা রাইস মিলের মালিকের কাছ থেকে ধান না কিনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার উদ্যোগ মৌসুমের শুরু থেকেই নেওয়া হলে হয়তো এই বিপর্যয় এড়ানো যেত। কৃষিশ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য বিনিয়োগসহ কৃষকের বিঘাপ্রতি ধান চাষের উৎপাদন খরচ কত হয় সেই হিসাব করে সরকার যদি মৌসুমের শুরুতেই ধানের দাম নির্ধারণ করে দেয় এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, তাহলে কৃষকদের এই দুর্গতিতে পড়তে হবে না। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
মো. আশরাফ উদ্দিন, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
