বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন হবে না

আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ০২:৫৯ এএম

নরেন্দ্র মোদির আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। কারণ ভারত যেরকমটা চায়, বাংলাদেশের সঙ্গে সেরকম সম্পর্কই আছে। এ থেকে আমার ধারণা হয়, ভারত ইতিবাচকভাবেই আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাবে। আমাদের দিক থেকেও সেই ধরনেরই মানসিকতা লক্ষণীয়। এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো ছাড়া খারাপ ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচন-পরবর্তী ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সম্পর্কের পরিবর্তন সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত সেটাও নেই। সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী ফল মেনে নিয়ে মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। তবে ভারত যদি তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে সম্পর্ক চায়, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর হবে না। সেটা না করে আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর জোর দিলে সেটা উভয়ের জন্যই ভালো হওয়ার কথা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্য আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীকরণ (এনআরসি) নিয়ে হাঙ্গামা হয়েছে। মোদি ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গেও তিনি একই কাজ করা শুরু করবেন। তবে আপাতত তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু বলা যুক্তিসংগত হবে না। কিন্তু এ সংকট যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ফলে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে।

মনে রাখতে হবে, ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং এবারের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় জেতার জন্য অনেক কাজ করেছে। এর মধ্যে ধর্মীয় বিষয়কে সামনে আনার প্রবণতা ছিল ব্যাপক হারে। হিন্দুত্ববাদ বিজেপির পকেটের বিষয়। তারা চাইলেই সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এখন যদি তারা মনে করে যে, আমরা জিতে গেছি, আপাতত এ বিষয় নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। তাহলে সার্বিকভাবে ভারতের জন্য সেটা মঙ্গলজনক হবে। তাদের উচিত হবে বিভাজন বাদ দিয়ে সবাইকে নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটা। আমার বিশ্বাস, তারা কিছু কিছু উদ্যোগ নেবে, যা সংখ্যালঘুদের স্বস্তি দেবে। মানুষ তো নিরাপত্তা চায়। আর সেটুকু দিতে পারলে তাদের সঙ্গে থাকতে সংখ্যালঘুদের তো কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কারণ সংখ্যালঘুদের প্রত্যাশা বেশি নয়। মোদ্দা কথা, ভারতবাসীকে স্বস্তি দিতে পারলে আমার ধারণা, আগামী নির্বাচনেও তারা সরকার গঠন করতে পারবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত