থ্যালাসেমিয়া রোগীদের শরীরে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিন কম থাকে। রোগীরা রক্তে অক্সিজেনের অভাবে ভোগেন।
ফি বছর পুরো বিশ্বে এক লাখ থ্যালাসেমিয়া রোগীর জন্ম হয়।
কম মাত্রার রোগে আক্রান্তদের অনেক ক্ষেত্রেই তেমন কোনো চিকিৎসার দরকার নেই।
বাহকদের শতকরা ৫০ ভাগের পরীক্ষার আগে রোগটির কোনো লক্ষণ জানা যায় না। তারা সুস্থভাবেই বাঁচেন।
থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ অবসাদ, অস্বস্তি, শরীরে দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মুখ ফ্যাকাশে হওয়া, মুখের হাড়ের বিকৃতি, শারীরিক বৃদ্ধি কমে যাওয়া, পেট বাইরের দিকে প্রসারিত বা ফুলে যাওয়া, গাঢ় রঙের মূত্র, প্লীহা বড়, হৃদযন্ত্রে সমস্যা, ত্বক হলুদ, বারবার জন্ডিস।
গর্ভের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোরিওনিক ভিলিয়াস স্যাম্পলিং, অ্যামনিওসেনটিসিস, ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলিং ইত্যাদি পরীক্ষা করা যায়।
অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় থ্যালাসেমিয়া পুরোপুরি ভালো হয়। এ জন্য ম্যাচ ডোনারের দরকার। আমাদের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেই। বিদেশে আছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোগী আয়রন, ফলিক অ্যাসিড খেতে পারেন। জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে ভালো থাকতে পারেন। তাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ, ভিটামিনও খাওয়া যাবে না। ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি আছেÑ এমন পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
বাহক মা-বাবা ছাড়াও নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে এই রোগ হতে পারে। রোগের বাহকরা এই রোগের বাহক ননÑ এমন কাউকে বিয়ে করলে সন্তানদের রোগটি হয় না। তারাও ভালো থাকেন।
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী জন্মের পর পরই ফ্যাকাশে হয়। স্বাভাবিক বিকাশ হয় না। হাঁটা, দাঁড়ানো, বসা সবই অন্য শিশুদের চেয়ে অনেক ধীরে হয়। ১০ বছরের স্বাভাবিক শিশুর চেয়ে তাকে সেই বয়সে পাঁচ বছরের অসুস্থ শিশুর মতো দেখায়। রক্তস্বল্পতা, ক্ষুধামন্দা, অনাগ্রহ থাকে। নাকের গোড়া, কপালের সামনের হাড় বাড়তে পারে, দাঁত ফাঁকা হতে পারে, পেট ফুলতে পারে, হাত-পা, চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত রক্ত না দিলে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। মারা যায়।
