সাউদাম্পটনে নামার সময় তাকে দুয়ো শুনতে হয়েছে। দুয়ো শুনেছেন ডেভিড ওয়ার্নারও। তবে জবাবটা একাই দিয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। খুব সাবলীল ভঙ্গিতে ১০২ বলে ১১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। দলকে পৌঁছে দেন ২৯৭ রানে। রান-উৎসবের সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার এই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট। প্রস্তুতি ম্যাচে অজিরা জিতেছে ১২ রানে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে জয়ের জন্য ২৯৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ২৮৫ রানে অল আউট হয় ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন জেমস ভিঞ্চ। অধিনায়ক জশ বাটলার ৩১ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। ৪০ রানে ক্রিস ওকস রান আউট হওয়ার পরই আসলে ইংল্যান্ডের হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন জেসন বেহার্নডর্ফ এবং কেন রিচার্ডসন।
ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস স্মিথময়। ইদানীং এমনভাবে ক্রিকেট খেলছেন স্মিথ তাতে মনেই হচ্ছে না তিনি প্রায় বছরখানেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। বিশ্বকাপের আগে তার শেষ চারটি ইনিংস যথাক্রমে ৮৯*, ৯১*, ৭৬ ও ১১৬। এমন ভয়ংকর ফর্মে কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন সাবেক অজি অধিনায়ক? হয়তো এক বছর না খেলার অতৃপ্তি রান-উৎসবে মিটিয়ে নিতে চান।
সাউদাম্পটনের প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল টস জিতেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক জশ বাটলার। আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ মাত্র ১৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। ডেভিড ওয়ার্নার অবশ্য সাবধানে খেলছিলেন। অল্পের জন্য হাফসেঞ্চুরি পাননি। ৫৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ার্নার ফেরার পরপরই আউট হন শন মার্শ। ফলে দলকে টেনে নেওয়ার চাপ এসে পড়ে স্মিথের ওপর। দর্শকের দুয়ো শুনে সেই চাপ নিশ্চয় বেড়ে গিয়েছিল। তাতে অবশ্য গুটিয়ে না গিয়ে নিজের ব্যাটিং প্রতিভা মেলে ধরেন স্মিথ। চারপাশে খেলেছেন কেতাবি শট। মেরেছেন ৮টি বাউন্ডারি আর ৩টি ওভার বাউন্ডারি। শেষে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাট তুলেছেন গ্যালারির দিকে। ইংল্যান্ড দর্শক তখন আর দুয়ো দেয়নি। দেবে কী করে। ততক্ষণে যে স্মিথের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে গেছে ইংলিশরা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসও স্মিথের মুগ্ধতা ছড়ানো ইনিংসের কারণেই যা একটু বড় হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ২৯৭ রান করে তারা। মিডল অর্ডারে নেমে উসমান খাজা ৩১ রান করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মার্ক উড, টম কুরান ও লিয়াম ডওসন। এদের কৃতিত্বে ব্যাটিং-সহায়ক সাউদাম্পটনে তিনশ পার করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ সেঞ্চুরি করে ফেরার পর বলেছেন সাউদাম্পটনের উইকেট টু-পেস। এখানে প্রচুর রান উঠবে। বলেছেন, ‘এই মাঠে রান করতে পেরে ভালো লাগছে।’ তবে ভরা মাঠে অনেক দিন পর খেললেন স্মিথ। যদিও আইপিএল এবং বিপিএলে ভরা মাঠ ছিল। কিন্তু স্মিথের গায়ে দেশের জার্সি ছিল না। এক বছর পর সেই জার্সি আবার পরলেন। আর সেঞ্চুরি করে তার মর্যাদাও রেখেছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে ১ জুন। সেদিন প্রতিপক্ষ অবশ্য শক্তিশালী কোনো দল নয়Ñ আফগানিস্তান। তবু সেই ম্যাচের আগে স্মিথের ফর্ম এবং ওয়ার্নারের ঝলমলে ব্যাটিং অনেক স্বস্তি দেবে অজি সমর্থকদের। এবারের বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডে নিজেদের মান রাখার একটা ব্যাপার আছে না? তাছাড়া এক দিনের ক্রিকেটে হলুদ জার্সিধারীরা চিরন্তন ফেভারিট। এবার দেখা যাক, সেই সুনামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন কি না স্মিথরা।
