মুখে আছে মাঠে নেই

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ০২:২০ এএম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঘটা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হলেও মাত্র আট মাসের মধ্যেই নীরব হয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক এই জোট। দৃশ্যত এখন জোটের কোনো কার্যক্রমই নেই। তাদের অস্তিত্ব যেন ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ প্রবাদের মতো হয়ে পড়েছে। জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের বক্তব্যেই এমন চিত্র উঠে এসেছে।

তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনের পর প্রধান দুই শরিক বিএনপি ও গণফোরামের ছয় এমপির শপথ নিয়ে জোটে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভোটের পর একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেও তা পালন করেনি ঐক্যফ্রন্ট। নেই নতুন কোনো কর্মসূচিও।

তবে ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোজার কারণে আপাতত জোটের কার্যক্রম নেই। তার মানে এই নয় যে, ফ্রন্ট নেই। ফ্রন্ট আছে, থাকবে। সামনের দিনগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টকে রাজপথে দেখা যাবে।

ছয় এমপির শপথ ও কর্মসূচি না থাকায় ক্ষুব্ধ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গত ৯ মে ফ্রন্ট ছাড়তে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে চিঠি দেন ফ্রন্টের আহ্বায়ক গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে। সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে কাদের সিদ্দিকী বলেন, অফিশিয়ালি কোনো অগ্রগতি নেই। শনিবার পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। 

জোটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে শরিক জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবাই নিজ নিজ দল নিয়ে ব্যস্ত। ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে চললে ঐক্যফ্রন্ট টিকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে। ফ্রন্টের আরেক শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধান শরিক বিএনপিতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। অন্যতম শরিক গণফোরামেও চলছে অস্থিরতা। তারা তাদের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠলেই কেবল ফ্রন্ট সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এজন্য জোটের প্রধান শরিক বিএনপিকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে যে ১৯ দলীয় জোট রয়েছে তারাও চায় না ফ্রন্ট কার্যকর হোক। সব মিলিয়ে মুখে মুখেই আছে ঐক্যফ্রন্ট। অবস্থাটা দাঁড়িয়েছে ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ প্রবাদের মতো।

নির্বাচনের পর কারচুপি, অনিয়ম নিয়ে গণশুনানি করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই গণশুনানির বক্তব্য বই আকারে প্রকাশের কথা ছিল। সে বিষয়ে জানতে চাইলে মান্না বলেন, কিছু বক্তব্যের খসড়া করা হয়েছিল। সেগুলো ওইভাবেই আছে। চূড়ান্ত করা হয়নি।

ফ্রন্টের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সম্প্রতি গণফোরাম কাউন্সিল করেছে। নতুন কমিটি করেছে। এ কমিটি বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলছে। কয়েক দিন আগে দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।   

গত বছরের ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। পরে ফ্রন্টে যোগ দেয় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। সংবাদ সম্মেলনে ফ্রন্টের ঘোষণায় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৪ এপ্রিল ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ৩০ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু ২৯ এপ্রিল বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ায় ওইদিনই গণজমায়েত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে আর সে কর্মসূচি পালন করেনি ফ্রন্ট। শুধু তাই নয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় সুধীসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েও কোনো কর্মসূচিই পালন করেনি ফ্রন্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত