নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষ্টি হলো যে কোনো জনগোষ্ঠী বা সমাজের জীবন ধারা। সমাজে বসবাসের ফলে যূথবদ্ধ মানুষের যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি, ঐতিহ্য, প্রথা, ধর্মীয় ভাবধারা গড়ে ওঠে, সে সবের সমষ্টি হলো সংস্কৃতি বা কৃষ্টি। এটা হলো মানুষের অর্জিত আচরণ যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তার লাভ করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারও কোনো সচেতন প্রচেষ্টা ছাড়াই। সভ্যতা বা উন্নয়নের একেকটা ধাপে একেক ধরনের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। তবে সভ্যতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন যেমন সহজে হতে পারে, সংস্কৃতির বেলায় ততটা সহজ নয়। কারণ সভ্যতার উপকরণ বস্তুগত, আর কৃষ্টির উপাদান মানুষের ব্যবহার উদ্ভূত। সমাজ বিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে সংস্কৃতি হলো আমরা যা তাই, আর সভ্যতা হলো আমরা যা ব্যবহার করি (Culture is what we are, civilization is what we use)। সমাজ যেমন মানুষ দিয়ে গঠিত, কৃষ্টি তেমনি ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ ও সম্পত্তির ভোগাধিকার থেকে সৃষ্ট। সমাজ ও সংস্কৃতি একে অপরের ওপর নির্ভরশীল; একটি ছাড়া আরেকটি কল্পনা করা যায় না। তবে কৃষ্টি কোনো স্থবির জিনিস নয়; ধীরগতিতে হলেও এটা সতত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনের এই ধারা সভ্যতা বা সমাজের সব অঙ্গের সঙ্গে সব সময় সমানুপাতিক হয় না। ফলে সাংস্কৃতিক সংকট তৈরি হয়, তৈরি হয় নানারূপ সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সমাজের কৃষ্টি যদি সৃষ্টিশীলতার অনুকূল হয়, প্রগতির সহায়ক হয়, মুক্তবুদ্ধির পৃষ্ঠপোষক হয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার বাঁধনে আবদ্ধ করতে প্রয়াসী হয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতা লালনে উদ্দীপ্ত হয়, তবে শান্তি ও উন্নতি টেকসই হয়, প্রবৃদ্ধি গতিশীল হয়।
পিতামাতার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাদের আদেশ-নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা ছিল আমাদের সমাজের একটি প্রধান কৃষ্টি। নগরায়ণ ও শিল্পায়নের এই যুগে যৌথ পরিবার ভেঙে নিউক্লিয়ার পরিবার গড়ে ওঠায় এ সংস্কৃতির প্রভাব এখন ক্ষয়িষ্ণু। রাষ্ট্র এখন যৌথ পরিবারের অনেক দায়িত্ব গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে। এতে কাজ হয়তো চলে যাচ্ছে। কিন্তু যৌথ পরিবারের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার যে সুবিধা ও আনন্দ তা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
সংস্কৃতি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষ দেখলে বোঝা যায়। ছোট-বড় আম গাছে কত আম ধরে আছে। কিন্তু কেউ সে আমে ঢিল ছুড়ে মারে না। এমনকি হাতের নাগালের মধ্যে আম দোল খায়। কিন্তু তার গায়ে কেউ আঁচড় পর্যন্ত দেয় না। দেশের অন্যত্র কি এই চিত্র কল্পনা করা যায়? সেখানে আম পাকা তো দূরের কথা, গুটি আমের টিকিটি খুঁজে পাওয়া যায় না গুলতির উপর্যুপরি নিক্ষেপণে। নবাবগঞ্জের ঐ
সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে উন্নয়ন-আশ্রয়ী। সুয়োরানী এখানে ফলদায়িনীর কাজ করছেন।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক প্রয়াত নাজমুল করিমের এক
বক্তৃতায় শুনেছিলাম যে, পৃথিবীতে দু’টি দেশে প্রকৃত সমাজতন্ত্র আছে; একটি হলো রাশিয়ায় আর আরেকটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। রাশিয়া যে ঐ সময় সমাজতান্ত্রিক দেশ ছিল, তা আমরা সবাই জানতাম। কিন্তু ‘পুঁজিবাদীদের মক্কা’ আংকেল শ্যামের দেশ কীভাবে সমাজতন্ত্র কায়েম করল, তা আমাদের কাছে ছিল রীতিমতো বিস্ময়। তিনি খোলাসা করলেন। সমাজতন্ত্রের অন্যতম প্রধান নীতি হলো সকলের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করা, যাতে প্রত্যেকে তার নিজ নিজ প্রয়োজন মেটাতে ও প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। রাশিয়ার চেয়ে মার্কিন মহলে সেই সুযোগ একটু বেশিই আছে। সেখানে মুচি বা নাপিতের ছেলে বা মেয়ে যেই হোক না কেন, প্রতিভা থাকলে তার কদর আছে; পিতামাতার পরিচয় সেখানে গৌণ। এই কৃষ্টির সৌজন্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বে প্রতিভাবানদের আবাসস্থলে পরিণত হতে পেরেছে।
অনেক পদক্ষেপের পরও আমাদের সমাজে নারীর প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি যে খুব বদলেছে, তা বলা যাবে না। আমরা মুখে লেডিস ফার্স্ট বলি বটে, বাস্তবতা নিচের কৌতুকটির মতোই উল্টো। এক দম্পতি দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এক সময় এক বনের ভেতর এসে পড়েন। মনুষ্য-গন্ধ পেয়ে বনের ক্ষুধার্ত শার্দুল উচ্চ নিনাদে সামনে এসে হাজির। তখন পতি বাবাজি তৎক্ষণাৎ তার ভার্যাকে পেছন থেকে এক হেঁচকা টানে সামনে এনে শের সাহেবকে করজোড়ে মিনতি করেনÑ ‘লেডিস ফার্স্ট, প্লিজ’।
শারীরিক সামর্থ্য, বিদ্যা-বুদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে এখনো নারীদের পুরুষের তুলনায় হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। নারীর প্রতি যে নিষ্ঠুরতা, হিংসা, অবিচারের চিত্র প্রতিনিয়ত দেখা যায়, তাতে এ দৃষ্টিভঙ্গির অকাট্য প্রতিফলন পাওয়া যায়। সনাতন ধর্মে দেবের তুলনায় দেবীর প্রাধান্য দেখে ধারণা জন্মে যে, একসময় সমাজে নারীর স্থান ছিল অনেক উঁচুতে। সমাজতত্ত্ববিদরাও এরূপ তত্ত্বই সমর্থন করেন। সেই দেবী বা রানীর আসন থেকে কীভাবে তারা চাকরানীর ভূমিকায় গৃহবন্দি হলেন, তার ব্যাখ্যাও তারা দিয়েছেন। কিন্তু অবস্থা তথৈবচ থাকায় তা দেশ ও সমাজের অশেষ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুয়োরানী এখানে জগদ্দল পাথরের ভার নিয়ে বসে আছেন। এখনো সমাজের সিংহভাগ নারী পুরুষের তুলনায় কম খাবার খান এবং সেটাও খান তাদের খাওয়ার পর অবশিষ্ট থেকে। আমরা সবাই স্বাস্থ্যবান ও বুদ্ধিদীপ্ত সন্তানসন্ততি কামনা করি। কিন্তু নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি যে সন্তানের স্বাস্থ্যের ভিত্তিমূল ও নিয়ামক, তা আমরা ভুলে যাই। আমরা করি শিশুর মতো আচরণ; এখন চকলেট হাতে পাওয়া তার কাছে স্বর্গপ্রাপ্তি, কিন্তু নিয়মিত এ প্রাপ্তিযোগ যে তাকে পরিণতিতে দন্তহীনতা ও স্থূলতার নরকে নিয়ে যাবে, তা বুঝলে এখন সে কান্নাকাটি করত না। আমরা নারীকে গৃহের অভ্যন্তরে, পর্দার আড়ালে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য শারীরিক প্রকৃতি অনুযায়ী তাদের যে নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি এবং এর জন্য তাদের ঘরের বাইরে যাওয়া দরকার, তা আমরা মানতে রাজি নই। তাই তো উন্নয়নশীল এই দেশেও স্থূলতার হার তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ ভাগের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ব্যাংকিং সেক্টরে এখন শুরু হয়েছে এক রোগ যাকে মন্দ ঋণের সংস্কৃতি বলা চলে। ইতিমধ্যে এর একটি সুন্দর নাম ও শব্দ-সংক্ষেপও (ধপৎড়হুস) দেওয়া হয়ে গেছে। অকার্যকর ঋণ (ঘড়হ-ঢ়বৎভড়ৎসরহম খড়ধহ) এর ইংরেজি শব্দ-সংক্ষেপ করা হয়েছে ঘচখ। এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর আগে প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকার ‘এনপিএল’ অবলোপন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকের তারল্য সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দু’টি সার্কুলার জারি করেছে। এটি মন্দ-ঋণ-গ্রহীতাদের দায়মুক্ত হওয়ার পথ বাতলিয়ে দিয়েছে; মাত্র ২% হারে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ আগামী ১০ বছরের মধ্যে ৯% সরল সুদে তারা সমুদয় ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। তারা ইচ্ছা করলে নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন। হয়তো এতে মন্দ ঋণের বেশির ভাগ আদায় হবে, ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে, টাকার গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবেÑ প্রভৃতি ইতিবাচক বিষয় চিন্তা করে নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রীয় ব্যাংক
কর্তৃপক্ষ এরূপ অপ্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ভালো ঋণ-গ্রহীতাদের জন্যও প্রণোদনা আছে। তাদের প্রদত্ত সুদের ওপর ১০% হারে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে ‘রিবেট’ দেওয়া অব্যাহত থাকবে। এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ, শিষ্টের পালনের মতো। কিন্তু ঋণের মন্দ-গ্রাহকদের যে সব সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সে বিবেচনায় ভালো গ্রাহকদের সুবিধা নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর। কারণ, ৫/৬ বছরের পুরাতন মন্দ ঋণ স্বল্প সরল সুদে আরও ১০ বছর ধরে আদায় করা হলে ১৫/১৬ বছরের মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় অন্তে প্রকৃত পক্ষে নিট আদায়যোগ্য পরিমাণ হবে প্রদত্ত ঋণের একটি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র। এজন্য অনেক ভালো ঋণ-গ্রহীতা এখন নাকি স্বেচ্ছায় মন্দ ঋণগ্রহীতায় অবনমিত হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছেন। এ জাতীয় কথাবার্তা এখন টিভি চ্যানেলগুলোর টক শোতে হর-হামেশা শোনা যাচ্ছে।
তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো এই যে, বড় ছাড় দিয়ে হলেও এই অপসংস্কৃতি যদি একেবারে নির্মূল করা যায়, তবে তা হবে মন্দের ভালো। যারা এই সুযোগ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের অর্থ ফেরত দেবেন, তারা দায়মুক্ত হবেন। আর যারা ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাছাড়া আরেকটি কাজ করা আরও জরুরি। সেটা হলো ভালো ঋণ-গ্রহীতাদের প্রণোদনা আরও বাড়িয়ে দেওয়া। এতে ব্যক্তি খাতে ২৩ শতাংশে স্থবির হয়ে থাকা বিনিয়োগের উল্লম্ফন ঘটতে পারে, যা কর্মসংস্থানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বোধগম্য কারণে ব্যাংক এই বাড়তি সুবিধা ঋণ-গ্রহীতাদের দিতে সমর্থ হবে না; রপ্তানিকারকদের এক্সপোর্ট বোনাসের মতো সরকার ভালো গ্রাহকদের বিনিয়োগ বোনাস দিতে পারে। এতে সর্বসাকল্যে তাদের প্রণোদনার পরিমাণ মন্দ ঋণ-গ্রহীতাদের দেওয়া ছাড়ের চেয়ে কম হলেও সমাজ ও অর্থনীতিতে তার ফলাফল হবে ব্যপক ও সুদূরপ্রসারী। কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়ার ফলে উৎপাদনে যে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এনে প্রজননকালে ইলিশ ধরা স্থগিত রাখার ফলে মাছের উৎপাদন যেভাবে বেড়েছে, সেটাই তার বড় প্রমাণ।
সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ইন্ডিয়া প্রাক্কলন করেছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতের মাথাপিছু আয় অতিক্রম করবে; ভারতের ৫৪২৩.৪ মার্কিন ডলারের স্থলে বাংলাদেশের ৫৭৩৪.৬ মার্কিন ডলার হবে। এটা একটা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক অভিক্ষেপ। আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এদেশ সম্পর্কে অনুরূপ আশা জাগানিয়া প্রক্ষেপণ হাজির করেছে। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে, অর্থনীতির প্রতিটি অভিক্ষেপ কতগুলো অনুমানের ওপর নির্ভরশীল, যেগুলো আবার অনেক ‘যদি’ আর ‘কিন্তু’ দ্বারা কণ্টকিত। এই ‘যদি’, ‘কিন্তু’র খোঁচায় ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান একবার বলেছিলেনÑ ‘আমি একজন এক হাতওয়ালা অর্থনীতিবিদ চাই’। কারণ, কোনো অর্থনীতিবিদই ‘ঙহ ঃযব ড়হব যধহফৃৃ.ধহফ ড়হ ঃযব ড়ঃযবৎ যধহফ’ ছাড়া কোনো কথা বলেন না। আমাদের সামনে যে সুদিনের সমূহ সম্ভাবনা আছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য দরকার প্রাক্কলনের অনুমানগুলোকে সত্যে পরিণত করা। এজন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, গতিশীল নীতিসহায়তা, বাঞ্ছিত সংস্কার সাধন, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসন, সর্বোপরি উন্নয়নের সংস্কৃতি প্রবর্তন ও তার লালন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশে একটা বড় সমস্যা হলো কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভয়ারণ্যে অবস্থান নিতে প্রয়াসী হন। এজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের অঙ্গীকার ও প্রশাসন যন্ত্রের কর্মীদের পেশাধারী দক্ষতাই কেবলমাত্র এক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। অধিকাংশ মানুষ সব সময় ক্ষমতাসীনদের সংস্কৃতির ধারক-বাহক হতে পছন্দ করে। মোগল আমলে ভারতবর্ষের মানুষ ক্ষমতাসীনদের অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় ফার্সি ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা শুরু করে। ব্রিটিশ-ভারতে এদেশীয় প্রজারা একই কারণে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় মনযোগী হয়। বর্তমানে ঋণের ক্ষেত্রে দুয়োরানীর সংস্কৃতিকে উল্টো রথে চড়াতেও ক্ষমতাসীনদের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত, তাদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা খুবই দরকার। উন্নয়নের এ পর্যায়ে আমরা নিশ্চয়ই আশা করতে পারি যে, দুয়োরানীর উল্টো রথযাত্রায় এবার অন্তত আমরা সুয়োরানীর আঙিনায় পৌঁছে যাব।
