শুল্ক আইন মন্ত্রিসভায় উঠছে

আজ পণ্য খালাস সহজ হবে

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ১০:৩৯ পিএম

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শুল্কায়ন নিশ্চিত করাসহ নকল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে তৈরি করা ‘কাস্টমস আইন, ২০১৯’ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ। আইনটি কার্যকর হলে আধুনিক শুল্ক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সৎ ব্যবসায়ীরা সহজে পণ্য খালাস করতে পারবেন। এক জায়গায় সব কাজ করতে পারবেন তারা। এর আগে খসড়া আইনটি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় তখন তা অনুমোদন হয়নি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পর গত বছরের বাজেট অধিবেশনেই তা পাস করার পরিকল্পনা ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের। এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলে আগামী বাজেট অধিবেশনে এটি পাস হবে। বর্তমানে ১৯৬৯ সালে প্রণীত ‘দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে বাংলাদেশে।

নতুন কাস্টমস আইনের খসড়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শুল্কায়ন ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে ইকোনমিক অথরাইজড অপারেটর, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো, পোস্ট অডিট ক্লিয়ারেন্স, অগ্রিম বিল অব এন্ট্রি দাখিল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাÑ এসব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যবসার পরিবেশ সহজতর হবে। নতুন আইনের খসড়ায় নকল দ্রব্য, অশ্লীল পুস্তক, অডিও-ভিডিও, ছবি, নকল ট্রেডমার্ক যুক্ত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে অর্থ পাচার, জালনোটের ব্যবসা, নকল পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমবে বলে আশা করছেন তারা।

বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ইতিমধ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে সরকার। এটি হলে আমদানি-রপ্তানিকারকদের এখন যেমন বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যেতে হয়। ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো হলে সরকারের একটি দপ্তরেই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেবেন ব্যবসায়ীরা। অন্য সংস্থাগুলোর কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে ওই দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, নতুন কাস্টমস আইন বিশ্বের অন্য দেশের আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে করা। ফলে আইনটি হবে বিশ্বমানের। আইন কার্যকর হলে বাইরের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে। আধুনিক শুল্ক প্রশাসন দুই-এক ঘণ্টার মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ পণ্যের চালান ছেড়ে দিতে সক্ষম। আমাদের এখানে দুই-তিন দিন সময় লেগে যায়। নতুন আইন হলে বাংলাদেশের শুল্ক প্রশাসনও ত্বরিত গতিতে পণ্যের চালান ছাড় করতে পারবে।

আইন ভঙ্গকারী আমদানি-রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ-ের বিধান বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে খসড়া আইনটিতে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নে ফাঁকি কমবে। চোরাচালান ও চোরাই পণ্যের লেনদেন করলে পণ্য মূল্যের সমান বা সর্বোচ্চ দ্বিগুণ অর্থদ-সহ পণ্য বাজেয়াপ্ত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে পণ্য অপসারণ করলে ওই পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্ককর পরিশোধ ছাড়াও পণ্যমূল্যের সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ অর্থদ-ের কথা বলা আছে। তবে পণ্যটি করযোগ্য না হলে বা তার শুল্কায়ন সম্ভব না হলে প্রতিটি নিখোঁজ বা ঘাটতি বস্তুর জন্য ৫০ হাজার টাকা অর্থদ-, কালো পণ্যের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ওই পণ্যমূল্যের ১০ গুণ অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আনা হলে পণ্যমূল্যের সর্বোচ্চ তিনগুণ অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে খসড়ায়।

 

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর নতুন কাস্টমস আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১২ সালে এ নিয়ে কাজ শুরু করে এনবিআর। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশে নতুন কাস্টমস আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।  তাগিদ কাছ থেকেই এসেছে। মূলত বিশ্ব মানদণ্ডে শুল্ক প্রশাসনকে নিয়ে যেতেই নতুন আইন করা হয়েছে। ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন হারমোনাইজেশন অ্যান্ড সিম্পলিফিকেশন অব কাস্টমস প্রসিডিউরস বা সংশোধিত কিয়োটো স্মারকে সই করে বাংলাদেশ, যা আধুনিক কাস্টমসের নকশা হিসেবে পরিচিত। এরপর ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্টে সই করে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত