যেমন আশঙ্কা করা হয়েছিল তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটছে না। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির টানা দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় আসার পর ফের নিশানায় মুসলিমরা। নারীসহ চার মুসলিমকে নির্মম পিটুনির একদিন পর এবার এক মুসল্লিকে নির্যাতনের খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির গুরুগ্রামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর টুপি খুলে নিয়ে এক মুসল্লিকে মারধর করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে শূকরের মাংস খাওয়ানোর।
গত ২৫ মে রাতে গুরুগ্রামের জাকাবপুরার এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদ বারকাত (২৫) নামের এক মুসলিম তরুণ নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হন। এসময় ছয় যুবক তাকে একটি মিষ্টি দোকানের সামনে ঘিরে ধরে।
বারকাত বলেন, “যুবকদের একজন আমাকে আক্রমণাত্মক কথা বলে। আমাকে বলা হয়, এই এলাকায় মাথায় টুপি দেওয়ার অনুমতি নেই। যখন আমি মসজিদ থেকে ফিরছি বললাম, সে আমাকে থাপ্পড় দেয়।”
“এরপর আমাকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বলা হয়। আমি সেটা বলতে অস্বীকার করলে, আমাকে শূকরের মাংস খাওয়ানোর হুমকি দেয়” বলছিলেন একমাস আগে গুরুগ্রামে টেইলারিং শিখতে আসা বারকাত।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি একপর্যায়ে একটি লাঠি নিয়ে তাকে পেটাতে থাকে এবং লাথি-কিলঘুষি মারতে থাকে।
বারকাত যখন বাঁচার জন্য ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, তখন তার শার্ট ছিঁড়ে দেওয়া হয়। তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে ছয় যুবকের চারজন মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাকি দুজন হেঁটে পাশের গলিতে ঢুকে যায়।
পরে বারকাতের চাচাতো ভাই মর্তুজা থাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে ফোন দেয়।
এঘটনায় ধর্মবিদ্বেষী ঘৃণা ছড়ানো, আঘাত করা, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ এবং অবৈধ জনসমাবেশের অভিযোগে একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে থানা পুলিশ।
