সেচের নলকূপে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ১২:০৩ এএম

কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপনে এখন থেকে উপজেলা পরিষদ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। এ জন্য মৌজা ও মৌজাগুলোর নকশা, নলকূপ স্থাপনের সুনির্দিষ্ট স্থান, আশপাশে নদী, খাল ও বিল থাকলে তার অবস্থান উল্লেখ করে উপজেলা পরিষদে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত সেচ এলাকার চারপাশে অবস্থিত নলকূপগুলোর অবস্থান, ফসলের পরিমাণ ও বিবরণসহ প্রস্তাবিত সেচ এলাকার তথ্যও থাকতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সরেজমিনে সব তথ্য যাচাই শেষে লাইসেন্স ইস্যু করবে উপজেলা পরিষদ।

এমন বিধান করে ‘কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৯’ জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর আগে গত বছর কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন জারি করেছে সরকার। 

এতদিন কৃষিকাজে গভীর ও অগভীর নলকূপ বসাতে সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। ফলে বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নলকূপ রয়েছে। কোথাও কোথাও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যই নতুন আইন ও বিধিমালা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, বোরো, গম, ভুট্টা ও শাকসবজি চাষের উপযোগী জমিতে নলকূপ স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সর্বদা প্রবহমান নদী থেকে নলকূপ স্থাপনের স্থান অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে হতে হবে। নলকূপ স্থাপনের স্থান এমনভাবে নির্বাচিত করতে হবে যাতে নলকূপের প্লাটফরম বন্যার সময় পানির সচরাচর সর্বোচ্চ স্তর অপেক্ষা উঁচুতে থাকে।

লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে দুই কিউসেক পানি উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন গভীর নলকূপের জন্য ৫০০ টাকা, দেড় কিউসেকের জন্য ৪০০ টাকা, এক কিউসিকের জন্য ৩০০ টাকা আধা কিউসেকের জন্য ২০০ টাকা ফি দিতে হবে। আর অগভীর নলকূপের জন্য ২০০ টাকা ফি দিতে হবে।

আবেদন পাওয়ার পর কমিটি সরেজমিনে যাচাই করবে। যে স্থানে নলকূপ স্থাপন করা হবে সেখানকার পানি ধারক স্তরের অবস্থা, নিকটবর্তী অন্য নলকূপের দূরত্ব, নলকূপ দ্বারা উপকৃত হবে এমন সম্ভাব্য এলাকাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে অনুমোদন দেবে। এক্ষেত্রে দুই কিউসেক পানি উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন গভীর নলকূপের জন্য ২৪ হেক্টর, দেড় কিউসেকের জন্য ১৮ হেক্টর, এক কিউসেকের জন্য ১২ হেক্টর ও আধা কিউসেক ও অগভীর নলকূপের জন্য ৬ হেক্টর জমি থাকতে হবে। গভীর নলকূপের জন্য লাইসেন্স ফি তিন হাজার টাকা ও অগভীর নলকূপের ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা লাইসেন্স ফি দিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, নলকূপ স্থাপনে লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত সাতদিন আগে তা নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। নবায়নের আবেদন করতে দেরি হলে গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা ও অগভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা বিলম্ব ফি দিতে হবে। আর একবার লাইসেন্স নেওয়ার পর তার মেয়াদ শেষে ৬০ দিনের মধ্যে নবায়নের জন্য আবেদন না করলে পুরনো লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে। 

আগে থেকে যেসব গভীর ও অগভীর নলকূপ কৃষিসেচে ব্যবহৃত হচ্ছে ৬ মাসের মধ্যে সেগুলোকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে উল্লেখ করে বিধিমালায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে এগুলোর আবেদনও যাচাই-বাছাই করা হবে।

এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করলে সাত দিন সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। নোটিসের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে বা সময়মতো জবাব পাওয়া না গেলে কমিটি লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারবে। তবে ওই স্থগিতাদেশ অনুমোদনের জন্য সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা পরিষদে পাঠাতে হবে। উপজেলা পরিষদ আবার লাইসেন্স গ্রহীতাকে সাত দিন সময় দিয়ে শুনানির জন্য নোটিস দেবে। তাতে লাইসেন্স স্থগিতের মতো কারণ না থাকলে আদেশটি বাতিল করবে। আর স্থগিত রাখার প্রয়োজন মনে করলে ওই লাইসেন্সের কার্যকারিতা ৪৫ দিন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। কোনো লাইসেন্স এক বছরের মধ্যে তিন বার স্থগিত হলে তা বাতিল করা যাবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত