ঈদের বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। আর ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ তাদের বিক্রয়কেন্দ্রে সাজিয়ে রেখেছে শিশুদের রং-বেরঙের পোশাক। নতুন পোশাক ছাড়া জমে ওঠে না শিশুদের ঈদ আনন্দ। তাই বাবা-মাও গুরুত্ব দেন সন্তানদের পছন্দসই পোশাক কিনতে। এবার শিশুদের পোশাকেও এসেছে ভিন্নতা। বৃষ্টি ও গরমের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে শিশুদের নানা রং ও নকশার ঈদ পোশাক। তবে মেয়ে ও ছেলেশিশুদের পোশাকে রয়েছে ভিন্নতা। মেয়েশিশুদের জন্য এবার ঈদে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে ‘পিকপক’ নামে একটি ভারতীয় পোশাক। এ ছাড়াও ক্রেতাদের চাহিদার তালিকায় রয়েছে সুম্মানা, সাওন, গাউন, বারবিডল, গারারা, স্কাট, পার্টি ফ্রক, ঘাগরা ও কামিজ। এগুলো কাতান, জর্জেট, মসলিন, সুতি ও টিস্যু কাপড়ের তৈরি। কেউ কেউ আবার মেয়েশিশুদের জন্য কিনছেন শাড়ি। অন্যদিকে ছেলে শিশুদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ধুতি, টি-শার্ট, শার্ট ও ফতুয়া।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গাউছিয়া, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা, মেট্রো ও ধানমন্ডির এআর প্লাজা ঘুরে ছোটদের পোশাক বিক্রিতে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততার দৃশ্য দেখা যায়। কয়েকটি বিপণিবিতানে বড়দের পোশাক বিক্রেতারা বেচাবিক্রির পরিমাণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও স্বস্তি প্রকাশ করেন শিশুদের পোশাক বিক্রেতারা। রোজার শেষ দিকে এসে ছোটদের পোশাক বিক্রির পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। শিশুদের বৈচিত্র্যময় সব নকশার পোশাক দোকানে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। আর ঈদের আনন্দকে সার্থক করতে যেন বাবা-মা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছুটে চলেছেন বিপণিবিতানগুলোতে। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের পোশাক কিনে ঘরে ফিরছেন তারা। ছোটদের পোশাকের বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে পা ফেলার মতো জায়গা নেই। তবু সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে অভিভাবকরা ছুটে চলেছেন এক বিপণিবিতান থেকে আরেক বিপণিবিতানে।
শিশুরা ঈদে সারা দিন ভারী পোশাক পরে থাকতে অস্বস্তি বোধ করতে পারে। এজন্য অনেকে সুতি বা জিনসের শর্ট প্যান্ট, শর্ট হাতার শার্ট ও ফতুয়া কিনছেন। কেউ কেউ আবার শখ করে শাড়ি কিনতে ছুটে আসছেন। গেঞ্জির নরম কাপড়ের পোশাকের চাহিদাও আছে। বড়দের মতোই ছোটদের পোশাকে রয়েছে কারচুপি, হাতের সেলাই ও এমব্রয়ডারির কাজ। এ ছাড়াও রয়েছে সিল্ক ও মসলিন পোশাকের পার্টি পোশাক। আর রঙেও রয়েছে ভিন্নতা। দামের দিক থেকেও রয়েছে ভিন্নতা। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকার পোশাকও রয়েছে। ছোটদের দেশি পোশাকের প্রতিও রয়েছে আকর্ষণ।
মল্লিকা ফ্যাশন হাউজের বিক্রেতা শান্ত ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোজার ১৫ দিন থেকে ছোটদের পোশাক বিক্রি খুবই ভালো হচ্ছে। এবার ভারতীয় পোশাক ‘পিকপক’ এর প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বেশি। তবে সুম্মানা, সাওন ও গারারার প্রতিও ঝোঁক আছে ক্রেতাদের। অনেকে আবার প্রচ- গরমের কারণে সুতির ভিন্ন কিছু রাখছে ভারী পোশাকের পাশাপাশি।’
সাজ মহলের বিক্রেতা তাসিন হোসেন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ৫-৬ লাখ টাকার পোশাক বিক্রি হয়। ১৫ রোজা থেকে মোটামুটি বেচাবিক্রি হলেও এখন তার দ্বিগুণ বিক্রি হচ্ছে। আমরা আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছি। বিক্রিও হচ্ছে আমাদের চাহিদামতো।’
ধানমন্ডি থেকে আসা ক্রেতা মেঘলা রহমান বলেন, ‘মেয়ের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি। নিউ মার্কেট বা গাউছিয়ায় কম দামে বাচ্চাদের খুব ভালো পোশাক পাওয়া যায়। ছেলের জন্যও এখান থেকে পোশাক কিনব। গরমের কারণে কাছের মার্কেট থেকে ঈদের সব কেনাকাটা সেরে ফেলব আজই।’
শিশু ক্রেতা নুসরাত রিম্মি বলে, ‘আম্মুর সাথে এসেছি ঈদের নতুন জামা কিনতে। আমি এইবার ঈদে সাদা রঙের একটা গাউন কিনব। সাথে গোলাপি জুতো ও সাজগোজের জিনিস।’
