বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া নিজ আয়োজনে খাওয়া-দাওয়া করেন। চলতি রোজার মাসে প্রতিদিন ইফতার ও সাহরিও খাচ্ছেন নিজের পছন্দমতেই। তার পছন্দের তালিকা অনুযায়ী বাজার করছেন কারারক্ষীরা। টাকা-পয়সা দিচ্ছেন খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজন, লোকজন। সঙ্গে থাকা গৃহপরিচারিকা ফাতেমা রান্না করছেন। আলাদা রান্নাঘর আছে।
গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক। তিনি জানান, খালেদা জিয়া রোজা রাখছেন।
জোল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়া ইফতারের জন্য ৩০ টাকা পাচ্ছেন এমন তথ্য নিয়ে বেশ সরগরম রাজনীতি। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিএনপি দলের চেয়ারপারসনের ইফতারের জন্য দৈনিক ৩০ টাকা বরাদ্দ রাখায় ক্ষুব্ধ। রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে দেওয়া ইফতারেও বিএনপি এবার বরাদ্দ রেখেছিল ৩০ টাকা। মেন্যুতে ছিল পানি, পেঁয়াজু, মুড়ি, বেগুনি ও খেজুর।
আসলেই কি খালেদা জিয়াকে ৩০ টাকার ইফতারি দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএসএমএমইউ পরিচালক বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) নিজের খাবার খান। ওনার আলাদা কিচেন আছে। কারারক্ষীদের দিয়ে বাজার করান। ফাতেমা রান্না করেন। এখানে ৩০ কেন, কোনো টাকার কথাই আসছে না। কারণ উনি তো আমাদের খাবার খান না। আমাদের দেওয়া খাবারে ইফতারিও করেন না। সুতরাং ৩০ কি ৪০ টাকা তা নিয়ে কোনো কথা নেই।
এই পরিচালক বলেন, জেল কোড অনুযায়ী উনি ৩০ টাকার ইফতারি পান। সেটাই হওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু তিনি নিজের পছন্দে খাবার খান, তাই হাসপাতালের টাকার কথায় আসে না।
ইফতার বা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি নেতাদের নানা মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসপাতালের এই কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওনার দলের লোকজন বাইরে এমনি কথা বলেন। তারা কোনোদিন তার স্বাস্থ্য বা খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে অফিশিয়ালি কিছু জানতে আসেন না। অফিশিয়ালি খোঁজখবর নেন না। অথচ বাইরে নানা মন্তব্য করেন।
