ঈদযাত্রায় বাসের আগাম টিকিট বিক্রির এক সপ্তাহ পর গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে যাত্রা। বিক্রি শুরুর পরদিনই দ্রুত টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। তবে যাত্রা শুরুর একদিন আগে আবারও বাড়ানো হয়েছে বাসের টিকিটের দাম। যদিও বাস মালিকরা ঘটা করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঈদে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গত সোমবার বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কাউন্টারে কাউন্টারে টানানো হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়ার তালিকা। এতে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব গন্তব্যের ভাড়া বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত। যাত্রীরা বলছেন, এ বিষয়টি নৈরাজ্যের পর্যায়ে চলে গেছে। বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী মহাসচিব গোলাম মুর্শিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদে ট্রেন ছাড়া সব পরিবহনের ভাড়া বাড়ে। কারণ যাত্রীরা শুধু একদিকে যান। ঢাকায় আসার সময় এখন গাড়ি প্রায় খালি আসছে। এজন্য যাওয়া-আসার ভাড়া হিসাব করে একটা মধ্যবর্তী ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে বিআরটিএ।’
ঈদ করতে বাড়ি যাওয়ার জন্য নাটোরের গুরুদাসপুরের দুই ভাই মোহাম্মদ আলামিন ও আলাউদ্দিন আসেন কল্যাণপুরে হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে। ১১০০ টাকায় তারা দুটি টিকিট কেনেন। দুই ভাই জানান, স্বাভাবিক সময়ে দুটি টিকিটের দাম ৭০০ টাকা। কিন্তু এখন তা ৪০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হলো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাউন্টার মাস্টার নাহিদ হাসান বলেন, ‘সমিতির সিদ্ধান্তে দুদিন ধরে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এজন্য ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।’ আগাম টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ার পর এখন কীভাবে তা পাওয়া যাচ্ছেÑ জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগাম টিকিটের সময় সামনের দিকের টিকিটগুলো বিক্রি হয়েছে পেছনের অল্প কিছু সিট এখনো খালি আছে। সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।’ এস আর পরিবহনের কাউন্টারের মাস্টার মেহেদী মুন্না বলেন, ‘ঈদের পর ১০ তারিখ (জুন) পর্যন্ত এ ভাড়া কার্যকর থাকবে বলে শুনেছি।’
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ধিত ভাড়ার তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা-নওগাঁ রুটের ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭০ টাকা। তবে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। দিনাজপুরের হিলি, গাইবান্ধা এবং জয়পুরহাটের ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫১৭ টাকা; রংপুরের ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা; দিনাজপুরের ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা; বুড়িমারীর ৬০০ টাকা থেকে ৮২৩ টাকা; পঞ্চগড়ের ৬৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা; ঠাকুরগাঁওয়ের ৬০০ টাকা থেকে ৭৩৩ টাকা; রাজশাহীর ৫০০ টাকা থেকে ৬১৩ টাকা করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে দেখা গেছে।
গতকাল রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী ও মহাখালীতে দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদযাত্রা শুরু হলেও স্বাভাবিক দিনের মতোই লোকজন যাচ্ছেন বাড়ির পথে। অনেকে আগাম টিকিট না করেও কাউন্টারে এসেছেন। শ্যামলী, হানিফ, ডিপজলসহ বড় পরিবহনের বাসগুলোর অল্প কিছু টিকিটও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দাম নেওয়া হয় কয়েকগুণ বেশি।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ খুলনাগামী সোহাগ পরিবহনের এসি টিকিটি কেটেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদে যানজট এড়াতে আগেই বাড়ি যাচ্ছি, টিকিটের দাম আগের থেকে ৪০০ টাকা বেশি।’
হানিফ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা শফিউল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন আমরা অলস সময় পার করছি। টিকিট যা বিক্রি করার তা করেছি এখন শুধু গাড়ি ছাড়ার পালা।’ ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ভাড়া আগের তুলনায় একটু বেশি।’
রাজধানীর আসাদ গেইটের কাউন্টারগুলোতেও উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকিট তেমন একটা নেই। তবে অল্প কিছু যা আছে তার বেড়ে হয়েছে দেড়গুণ। জানতে চাইলে হাবিব নামের এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে গাড়ির ভাড়া ৫০০ টাকা ছিল এখন তাই ৮০০ টাকা করে যাচ্ছি কিছু করার নেই। এভাবেই যেতে হবে। হক পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আনামুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ৪ জুন পর্যন্ত সব বাসের টিকিট শেষ, যাত্রীরা আগে থেকেই টিকিট কিনে রেখেছেন। কাল (আজ বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হবে ভিড়।
