১০৩টি বুড়ো ইঞ্জিন নিয়ে ঈদযাত্রা পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ০৩:৫৬ এএম

আসন্ন ঈদযাত্রায় রেলের আরামের যাত্রা হারাম হয়ে যেতে পারে রেলওয়ের মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন মাঝপথে বিকল হয়ে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন যাত্রীরা। তবে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। 

সাধারণত ঈদের সময় ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ে অত্যধিক। যাত্রীদের চাপ সামলাতে তখন রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অনেকটি বিশেষ ট্রেন চালু করে। ফলে টানা এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন রেলের ইঞ্জিনগুলো বিশ্রাম পায় না। যে কারণে সেগুলো কখনো কখনো বিকল হয়ে শিডিউল বিপর্যয় হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এবারও চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন অনেকে। কারণ ইঞ্জিন সংকটে পড়ে পুরনো ইঞ্জিন নিয়ে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী চট্টগ্রাম মেইল ও চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে। এতে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

সূত্র বলছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে মোট ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১০৩টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ৬৯টি, ২০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদ অতিক্রম করছে ৩৪টি ইঞ্জিন।

এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দিয়ে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে যাত্রী পরিবহন করছে রেলওয়ে। এই বিষয়ে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি রেল ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (স্ট্যান্ডার্ড ইয়ার) ২০ বছর ধরা হয়। এই হিসেবে আমাদের ইঞ্জিনগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।

গত রবিবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ঈদের অগ্রিম টিকিট নিতে আসা আলাউদ্দিন নামে এক যাত্রী বলেন, একটু কষ্ট হলেও রেলের টিকিট পেয়েছি ৪ জুনের। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি যাব। কিন্তু পথে রেলের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যদি ট্রেন বিকল হয়, তাহলে কষ্টের সীমা থাকবে না।

তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘেœ বাড়ি পৌঁছাতে সবধরনের প্রস্তুতি নিতে সব দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিন সংকট কাটাতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে রেলে ৭০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) যুক্ত হবে। তখন রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকট অনেকটা কেটে যাবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) এস এম মুরাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার ঈদে ৮০৩ কোচে (বগি) করে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে ১২টি স্পেশাল ট্রেন যুক্ত করা হবে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত যাত্রীবহনে ১৩৮টি যাত্রীবাহী বগিও সংযুক্ত করা হবে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ৮০৩ কোচের মধ্যে ৭৩টি মেরামতের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে থেকে এরমধ্যে ৩৬টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০টি প্রস্তুত আছে, বাকিগুলো মেরামতের কাজ চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত