৪-এর দাবিটা জানিয়ে রাখলেন রাহুল

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ০৪:১৬ এএম

৯৯ বলে ১০৮। হালের রঙিন ক্রিকেটে শতশত বিধ্বংসী ইনিংসের ভিড়ে একে বড্ড সাধারণ একটা ইনিংস বলাই যায়। তারপরও তিন অঙ্ক ছুঁয়ে যখন হেলমেটটা খুলে কার্ডিফের ভারত-ভক্তদের অভিনন্দনের জবাব দিলেন লোকেশ রাহুল, খুব বোঝা গেল হাজার মণ ওজনের পাথর নেমে গেল তার বুক থেকে। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে হয়তো এ ইনিংসটাই তাকে করে দেবে জায়গা। বাংলাদেশের বিপক্ষে মঙ্গলবার ইনিংস গড়া এই শতকে, গুরুত্বপূর্ণ চার নম্বর পজিশনে খেলার দাবিটা ভালোভাবেই জানিয়ে রাখলেন রাহুল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে চারে নেমে মাত্র ৬ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে প্লেডঅন হয়েছিলেন রাহুল। হয়তো ভীতি জন্মেছিল আসছে বিশ্বকাপের একাদশ থেকে জায়গা হারানোর। মঙ্গলবার কার্ডিফে বাংলাদেশের বিপক্ষে যখন খেলতে নামলেন তখন দ্বিমুখী চাপ ভর করেছে তার ওপর। একে তো নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, তার ওপর দুই ওপেনারের ব্যর্থতায় মেরামত করতে হবে ইনিংস। বিষম চাপকে অবশ্য ঘাড়ে চেপে বসতে দেননি রাহুল। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দলের ইনিংসটাকে প্রথমে থিতু হতে দিলেন, অধিনায়ক বিরাট কোহলির পর মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সঙ্গে করে দলকে এনে দিলেন ৩৫৯ রানের বিশাল সংগ্রহ। সাব্বির রহমানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ইনিংসটা তিনি সাজিয়েছিলেন ১২ চার আর ৪ ছক্কায়।

প্রস্তুতি ম্যাচ বলেই বল হাতে বাংলাদেশের অত্যাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগটা কাজে লাগালেন রাহুল। তাতেই ভারতের চার নম্বর পজিশনে যাকে ভাবা হয়েছিল প্রথম থেকে, সেই বিজয় শঙ্করের জায়গাটাই হয়ে গেছে নড়বড়ে। ভারত তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ভাববার সময় আছে ঢের। তারপরও ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির রাহুলকে নিয়ে ভূয়সী প্রশংসায় একটা ইঙ্গিত কিন্তু মিলেই যাচ্ছে, ‘এই ম্যাচের সবচেয়ে ইতিবাচক হচ্ছে চারে কেএলের দুর্দান্ত ব্যাটিং। দলের প্রত্যেকে তাদের দায়িত্বটা সম্পর্কে জানে। কেএলের রানে ফেরাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমার চোখে ও একজন আদর্শ ব্যাটসম্যান। দলের ইনিংসকে বড় করার বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী সে এবং এই ইনিংসটাই প্রমাণ দিয়েছে তার ব্যাটিংশৈলীর।’

এমন স্বস্তিদায়ক ইনিংসের পর স্বভাবতই খুশি রাহুল। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাটাও বেড়েছে তার। তারপরও যখন চার নম্বরে ব্যাটিং বিষয়ক প্রশ্ন গেল তার কাছে, তখন তিনি দিলেন কূটনৈতিক উত্তর। বললেন, দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত তিনি, ‘ক্রিকেট দলগত খেলা। এখানে আপনাকে যেকোনো পজিশনে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যেকোনো দায়িত্বই আপনার পালনে থাকতে হবে সচেষ্ট। দলের প্রতিটি ক্রিকেটারই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে গত দুই বছর ধরে। একটি দলের হয়ে খেলতে গেলে নিজের চেয়ে দল নিয়েই বেশি ভাবতে হয়। আমরা প্রত্যেকে যেকোনোভাবেই হোক দলের জন্য খেলতে প্রস্তুত আছি।’

গত দেড়টি বছর রাহুলকে মোকাবিলা করতে হয়েছে অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝার। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হাসেনি তার ব্যাট। ওয়ানডেতেও ফোটাতে পারেননি স্ট্রোকের ফুলঝুরি। তাই তো এই মাস দুই আগেও চার নম্বরের জন্য ভারতীয় নির্বাচকদের সুনজরে ছিলেন আম্বাতি রাইডু ও বিজয় শঙ্কর। তারপরও রাইডুকে ঝেড়ে ফেলে রাহুলকে মূল দলে রাখেন তারা। একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। নির্বাচকরাও অপেক্ষায় ছিলেন রাহুলের রানে ফেরার। বাংলাদেশের ম্যাচটা তাকে দিয়েছে সেই মঞ্চ। আর এই মঞ্চেই ছয়-চারের কাব্য লিখে বিশ্বকাপের রঙিন স্বপ্নে বিভোর তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত