গুঁড়োদুধে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের প্রস্তাব

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ১২:৫৭ এএম

আসছে বাজেটে গুঁড়ো দুধ আমদানির ওপর উচ্চ হারে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করেছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। এ বিভাগের সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলামকে চিঠি লিখে এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, স্বাধীনতার পর দুধের উৎপাদন বাড়ানো ও প্রান্তিক চাষিদের দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিল্ক ইউনিয়ন দেশের ৩৯টি জেলার ১৪০টি উপজেলায় অর্ধশতাধিক দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দুগ্ধ সংগ্রহ ও সম্প্রসারণ চলমান রেখেছে। বর্তমানে সারা দেশে তিনটি প্রক্রিয়াকরণ কারখানাসহ মোট ৪৯টি কারখানা চালু রয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি টন গুঁড়োদুধ উৎপাদন করছে মিল্কভিটা। নতুন কারখানা স্থাপন হলে আরও প্রায় ২২ থেকে ২৫ টন গুঁড়োদুধ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে বছরে প্রায় ৯০০ টন গুঁড়োদুধ উৎপাদন হবে।

তিনি আরও লিখেছেন, আগামী ২০২১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নেওয়া প্রাণিজ আমিষের মাধ্যমে দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে নিম্নমানের গুঁড়োদুধ আমদানি কমিয়ে দেশকে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে।

‘কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেজনকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের গুঁড়োদুধ স্বল্পমূল্যে বাজারে বিক্রির ফলে মিল্কভিটা একদিকে যেমন তার বাজার হারাচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তাই গুঁড়োদুধের আমদানি কমাতে উচ্চ হারে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ অতি জরুরি হয়ে পড়েছেÑ যোগ করেছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, মিল্কভিটার বর্তমান বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অন্যান্য প্রতিযোগীর মাঝে টিকতে হলে গুঁড়োদুধ আমদানি করা কমাতে হবে। এজন্য অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে হবে। এতে দেশও প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গুঁড়োদুধ আমদানির ওপর বর্তমানে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে সাড়ে ছয় হাজার টন গুঁড়োদুধ আমদানি হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত