ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার সকালেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত ১৮টি আন্তঃনগরসহ ৩২টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে; বাকিগুলো ছেড়েছে কমবেশি ৩ ঘণ্টা থেকে ৩০ মিনিট দেরিতে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পাঁচ বছর পর ইরান থেকে দেশে এসেছেন ফাতেমা জান্নাত। পরিবার-পরিজন নিয়ে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন কমলাপুর স্টেশনে। গতকাল দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে তার ট্রেন রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা গড়িয়ে বিকেল ৫টায় এর দেখা মেলেনি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ফাতেমার মতো অসংখ্য যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন।
সরেজমিনে বেলা ১১টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে অনেকেই ঘুমিয়ে। কেউ কেউ শুয়ে-বসে পত্রিকা বা উপন্যাস পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। ঈদযাত্রা শুরুর প্রথম দিন গত শুক্রবার ট্রেন ছাড়তে দেরির জন্য যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, দ্বিতীয় দিনে শিডিউল বিপর্যয় কেটে যাবে। তবে সার্বিকভাবে তা সম্ভব না হলেও বিকল্প ব্যবস্থায় গতকাল ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ নির্ধারিত সময়ের ৪০ মিনিট পর স্টেশন ছেড়েছে; গত শুক্রবার ট্রেনটি কমলাপুর ছেড়েছিল ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেরিতে। চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর সকাল পৌনে ৮টায় এবং খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর ৮টা ২০ মিনিটে স্টেশন ত্যাগ করে। পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস দুই ঘণ্টা দেরিতে দুপুর ১২টায় স্টেশন ছাড়ে, গত শুক্রবার ট্রেনটি নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় ছেড়েছিল। পৌনে ৩ ঘণ্টা দেরিতে বেলা পৌনে ১১টায় ছেড়ে যায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস; এ ছাড়া অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুরে ছাড়ে। এ ছাড়া রাজশাহী এক্সপ্রেস দুই ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বেলা পৌনে ৩টায় এবং সিল্কসিটি দুই ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর বিকেল সাড়ে ৫টায় কমলাপুর ছাড়ে। চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় ৩টায় ছেড়েছে।
১৪ বছর প্রবাসে কাটানো স্কুলশিক্ষক ফাতেমা জান্নাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে জার্নি করছি। গত শুক্রবার মধ্যরাতেই কমলাপুরে চলে এসেছি। ঈদের জন্য বাড়ি আসা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন শুনছি ২টা ৪০-এর ট্রেন ৫টা ১০-এ ছাড়বে। বেশ ক্লান্ত অবস্থায় শুয়ে থাকা বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, বেশ করুণ অবস্থায় আছি। কখন বাড়ি ফিরব ঠিক নেই! তবে ভিন্ন পরিস্থিতি সৈয়দা মমতাজের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রী মোহনগঞ্জ যাওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা আগেই কমলাপুরে এসেছেন। উপন্যাস পড়তে থাকা এই তরুণী দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকিট অনলাইনে সহজেই পেয়ে গেছি। ঈদে বাড়ি যাওয়ার আনন্দই আলাদা। অন্য সময়ে সবাই ছুটি পায় না। কিন্তু এই সময়ে আত্মীয়-স্বজন সবাই বাড়িতে আসে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে ঈদ করতে ভালো লাগে।
রাজশাহীগামী বেসরকারি চাকরিজীবী জুয়েল দেশ রূপান্তরকে জানান, জনগণের জন্য তো শুধু ভোগান্তি ১২টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও এখন দেড়টা বাজে ট্রেনের হদিস নেই।
কমলাপুর থেকে গতকাল ৬৮টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা। এর মধ্যে ৩৩টি আন্তঃনগর এবং বাকিগুলো লোকাল ও মেইল ট্রেন। কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাত্রী চাপের কারণে ট্রেন ঢাকা আসছে দেরি করে, ছাড়তেও দেরি হয়েছে। আর অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের মধ্যে ট্রেনগুলো গতি কমিয়ে চলছে বলে জানান।
ছাদে এখনো যাত্রী যাচ্ছে না তবুও ট্রেনগুলো গতি কমিয়ে চলছে কেনÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের যাত্রীদের নিরাপত্তা আগে। বিভিন্ন গন্তব্য থেকে আসা ট্রেন ড্রেসিং (পরিচ্ছন্নতা) করতে সময় লাগছে। প্রতি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করতেও সময় লাগছে।’
তবে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ আমিনুল হক আরও বলেন, ‘কয়েকটা ট্রেনে বিলম্ব হয়েছে। এটা তো শিডিউল বিপর্যয় না। কিছু ট্রেন ছাড়তে সময় বেশি লেগেছে।’ তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে আজ ৩টি স্পেশাল ট্রেন ঢাকা ছাড়বে। এগুলো হচ্ছে লালমনি ঈদ স্পেশাল, ঈশ্বরদী ঈদ স্পেশাল এবং ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে ঈদ স্পেশাল ট্রেন যাত্রা করবে।
