ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) যুক্ত নতুন ১৮ ওয়ার্ডের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। তুলনামূলক অনুন্নত এই অঞ্চলের নাগরিক সুযোগ সুবিধা বাড়াতে এ অর্থ ব্যয় করবে ডিএনসিসি। এর মধ্যে পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও যানজট নিরসনে সড়ক উন্নয়নে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের এ প্রকল্প অনুমোদন পেলে ২০২২ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ হবে। এ প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে। সভায় প্রকল্প নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে কমিশন।
পিইসি সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর কেটে গেলেও ডিএনসিসিতে যুক্ত নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা সিটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ওইসব এলাকার সড়ক এখনো খানাখন্দে ভরা। সন্ধ্যার পর বৈদ্যুতিক বাতির অভাবে ভুতুড়ে পরিবেশ হয়। অন্ধকারে পথই চলা কঠিন। এ ছাড়া ড্রেনের অভাবে জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। এই অবস্থায় এসব সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিতে প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বিভাগটি। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৫ কোটি টাকা।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় যানজট নিরসনে বিদ্যমান ১৭৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে ২৩০ কিলোমিটার। রাস্তায় এলইডি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হবে প্রায় ২০ হাজার। ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ২০৮ দশমিক ৫ বিঘা। এ ছাড়া ২৮ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। ওই অঞ্চলের উন্নয়ন সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে করা কঠিন। এ জন্য সরকারের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এখন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নাগরিকরা কিছুটা হলেও সিটি করপোরেশনের সুবিধা পাবেন। পরবর্তী সময়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে উন্নয়নমূলক কর্মকা- গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
পিইসি সভার কার্যপত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও বিদেশ প্রশিক্ষণে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ভাড়া গাড়ি ব্যবহারে তেলে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা, যা অনেক বেশি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে সম্প্রতি পিইসি সভা হয়। সভায় কিছু ব্যাপারে আপত্তি করে সংশোধন করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাকি কাজ শেষ করে খুব শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হবে।
ওই কার্যপত্র থেকে আরও জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। উৎসব ভাতায় লাগবে ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ৪৩টি মোটরসাইকেল কেনা হবে। একই সঙ্গে ১৪৪টি গাড়ি ভাড়া করে চালানো হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ওইসব গাড়ি ব্যবহারে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ লিটার তেল ব্যবহার করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, বিদেশে প্রশিক্ষণেও বিশাল অঙ্কের ব্যয় ধরা হয়েছে। এসব ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনারও পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
