সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘নায়ক’ ভারতের ওড়িশা রাজ্যের প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গি। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি। কিন্তু আজও তার জীবনের বিতর্কিত অতীত তাড়া করছে তাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সাধু চরিত্রের পাশাপাশি ১৯৯৯ সালে দুই
সন্তানসহ এক খ্রিস্টান মিশনারিকে হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও জায়গা পাচ্ছে। প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গি ছিলেন ওড়িশায় দুই দফার বিজেপি বিধায়ক। ‘ওড়িশার মোদি’ নামে পরিচিত প্রতাপ চন্দ্র প্রথমবার বালেশ্বর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জিতেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পশুপালন, ডেইরি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
ওড়িয়া ও সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী প্রতাপ সমাজসেবার জন্য গোটা রাজ্যে পরিচিত। আদিবাসী শিশুদের জন্য অন্তত ১০০টি স্কুল চালু করেছেন তিনি। ভোটের আগে সাইকেলে চেপে প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারে গিয়েছেন।
১৯৯৯ সালে ওড়িশা রাজ্য বজরং দলের সভাপতি ছিলেন প্রতাপ। তখন বালেশ্বরে অস্ট্রেলীয় মিশনারি গ্রাহাম স্টেইনস ও তার দুই শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তার। ওই হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত দারা সিংহের যাবজ্জীবন জেল হলেও তদন্তে রেহাই পায় বজরং দল। প্রতাপও এই ঘটনার সঙ্গে সব সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছিলেন। বিতর্ক শুধু এই ঘটনা ঘিরেই সৃষ্টি হয়নি। এরপর ২০০২ সালে ওড়িশার বিধানসভা ভবনের সামনে ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। দাঙ্গা, অগ্নিকাণ্ড, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।
প্রতাপ অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করে বলেন, ‘সব অভিযোগই মিথ্যা। আমি ঘুষ আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি বলে অনেকের শত্রু হয়ে গিয়েছি। পুলিশ ইচ্ছে করে আমাকে এই সব মামলায় জড়িয়েছে। বেশির ভাগ অভিযোগই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাকিগুলোও অচিরেই হবে।’ তার বিরুদ্ধে এখনো সাতটি মামলা বিচারাধীন।
ওড়িশার সাংবাদিক সন্দীপ সাহু বিবিসিকে বলেন, “সারেঙ্গি বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওই সব সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্মান্তরিত করার বিষয়টিকে ‘অশুভ তৎপরতা’ বলে অভিহিত করেছেন। খ্রিস্টান মিশনারিরা ভারতে জোরপূর্বক অনেককে ধর্মান্তরিত করেছে এবং করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি বলেছেন।”
সাংবাদিক সন্দীপ সাহু আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে খ্রিস্টান মিশনারি ও তার দুই সন্তানকে হত্যার নিন্দা করেন সারেঙ্গি। ঘটনার দিন তিনি ধর্মান্তরিত করার বিষয়টি নিয়ে অনশন করছিলেন বলেও দাবি করেন সারেঙ্গি।
