মাছ ধরা নিষিদ্ধ

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম, নইলে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ০৪:২১ এএম

বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ছোট নৌকা দিয়ে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ‘উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশন’। অন্যথায় আগামী ৯ জুন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জেলেপল্লীর বাসিন্দাদের এ সংগঠনটি এই ঘোষণা দেয় ।

সংগঠনের সভাপতি লিটন জলদাস লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের এমন সিদ্ধান্তে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকার থেকে আমাদের কোনো সহায়তা করা হয়নি। পরিবারপিছু ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা এক কেজি চালও পাইনি। এনজিও এবং দাদনের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে জেলে পরিবারগুলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ৭ বছর ধরে সরকারিভাবে প্রতি বছর মাছ ধরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। এতদিন এ নিষেধাজ্ঞা ছিল শুধু বাণিজ্যিক ট্রলারের জন্য। ছোট নৌকায় যারা মাছ ধরেন তারা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন না।’

গত ৬ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সভা থেকে ছোট নৌকায়ও মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেন বলে জানান লিটন জলদাস। সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা শ্যামল কুমার পালিত সংহতি প্রকাশ করেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘মাছ ধরা জেলেদের অধিকার। সাত বছর ধরে বড় বড় ট্রলারে মাছ ধরা বন্ধের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এবার হঠাৎ করে ছোট নৌকাগুলোকেও এর আওতায় কেন আনা হয়েছে, সেটা আমাদেরও বোধগম্য হচ্ছে না। প্রশাসনের খেয়ালখুশিমতো এই সিদ্ধান্তের কারণে জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত