
ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধনে থাকা উচ্চ ফি আগামী অর্থবছরের বাজেটে কমানো হচ্ছে। তবে ফ্লোর মূল্য বাড়ানো হতে পারে। এতে ক্রেতাদের একদিকে ব্যয় কমলেও অন্যদিকে ব্যয় বাড়বে। ফ্ল্যাটের মূল্য কম দেখিয়ে নিবন্ধন ফি কম দেওয়ার রাস্তা বন্ধ হবে। তাই নিবন্ধন ফি কমালেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, উচ্চ নিবন্ধন ফি’র কারণে এখাতে মন্দা নেমে এসেছে। ফ্ল্যাটের ধরন অনুযায়ী, নিবন্ধন ব্যয় গুনতে হচ্ছে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এক কোটি টাকায় ফ্ল্যাট কেনার পর তা নিবন্ধনে ব্যয় করতে হচ্ছে ১৩ থেকে ১৬ লাখ টাকা। উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা ফ্ল্যাট কিনে থাকলেও নিবন্ধন করতে রাজি হচ্ছেন না বলে মনে করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।
রিহ্যাবের প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি প্রায় দ্বিগুণ। অন্য দেশগুলোতে নিবন্ধনে ৭ শতাংশের বেশি খরচ হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে এটি ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে বলেছেন, আবাসন খাতের সংকট দূর করা আমাদের বড় অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আবাসন খাতের সমস্যা দূর করা হবে।
এনবিআরের একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী বাজেটে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধনের গেইন টেক্স, ভ্যাটসহ বিভিন্ন চার্জ ও ফি কমানো হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানো হতে পারে। তবে করের হার কমিয়ে ফ্লোর মূল্য বাড়ানো হতে পারে। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রকৃত হস্তান্তর মূল্যকে ভিত্তি হিসাব ধরা হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা জানান, ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি কমিয়ে ক্রেতাদের নিবন্ধনে উৎসাহ জোগানো হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা বেশি দামে ফ্ল্যাট কিনে নিবন্ধন ফি বাবদ কম খরচের জন্য দাম কম দেখিয়ে নিবন্ধন করছেন। বাজেটে ফ্লোর মূল্য বাড়িয়ে ফাঁকি রোধ করা হতে পারে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের কম আয়তনের ফ্ল্যাট কেনায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। আগে দেড় শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো, এখন ২ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এতে ৫০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনায় অন্তত ২৫ হাজার টাকা বেশি ভ্যাট দিতে হয়।
কালোটাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর আগে বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ বিবিবিবিবি নামের একটি নতুন ধারা সংযোজন করে অপ্রদর্শিত আয় দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দেওয়া আছে। এর ফলে কালোটাকার মালিকরাই ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী বাজেটেও এ সুযোগ অব্যাহত থাকতে পারে।
চলতি বাজেট অনুযায়ী, গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকায় এখনো প্রতি বর্গমিটারে ১ হাজার ৬০০ টাকা কর দিতে হয়। ধানম-ি, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া, উত্তরা, বসুন্ধরা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এই কর ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটির অন্য এলাকার জন্য কর এক হাজার টাকা। এক্ষেত্রে তেমন কোনো হেরফের হবে না বলে ইঙ্গিত দেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি খাতে পেনশন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হলেও এবারও তা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় শুরুতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের পেনশনের আওতায় আনার কথা ছিল। এজন্য সরকার একটি তহবিল গঠন করে সেখান থেকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি মালিকদের কাছ থেকেও কর্মীর পেনশনের জন্য নির্ধারিত হারে অর্থ নেওয়ার কথা ছিল। আগামী অর্থবছরের বাজেটেও এ তহবিল গঠন করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের মধ্যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হবে। তবে আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ থাকছে না।
এদিকে, আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ বা ‘নতুন উদ্যোক্তা তহবিল’ গঠন করা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশে এ তহবিল গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থান সেই গতিতে হচ্ছে না। অনেকেই একে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি বলছে। তাই কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্ট আপ ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিলের সহায়তায় উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
