বাংলাদেশ ইনিংসের ২৪তম ওভার শেষে, দলীয় স্কোর নিয়ে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ভবিষ্যদ্বাণী ছিল ৩২৮। ২৯তম ওভারে তাদের আরও একটি প্রেডিকশনে উঠে এলো, বাংলাদেশ করবে ৩৩৪ রান। পরে ইনিংস শেষের ১০ ওভার আগে দলীয় সংগ্রহের পারদ নেমে গেল ৩২৩-এ। তিনটি প্রেডিকশনের সবকটিই প্রায় সঠিক করলেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডেতে দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৩০ রানে থেমেছে টাইগারদের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ব্যাটিং সাফল্যে রেকর্ড বইয়ে নাড়াচাড়া হয়েছে বেশ।
মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের বীরোচিত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে উজ্জ্বল দিন হয়ে থাকল গতকাল রবিবার। এই দিনে এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এসেছে, বিশ্বকাপে ও গতকালকের ভেন্যু দি ওভালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ এসেছে। গতকালকের ৩৩০ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আর চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংগ্রহ তো বটেই। এছাড়া ব্যক্তিগত রেকর্ডের লিস্টও লম্বা হয়েছে। সাকিব ও মুশফিক দুজনই নাম লেখেছেন নিজ নিজ রেকর্ডের খাতায়। আবার দুজনে মিলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডও গড়েছেন।
১ রানের ব্যবধানে এতদিনের দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড টপকেছে গতকালকের ইনিংস। ২০১৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩২৯ করেছিল বাংলাদেশ। চার বছর পর ঠিক ৬ উইকেটেই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৩৩০ রান। বিশ্বকাপের হিসাবেও টপকে গেছে গতকালকের ইনিংস। এতদিন গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়ায় নেমে করা ৪ উইকেটে ৩২২ ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। গতকাল থেকে লেখা হলো নতুন সংখ্যা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে গতকালকের ইনিংসটি দারুণভাবে মিলে গেছে চার বছর আগের টুর্নামেন্টের ইনিংসের সঙ্গে। স্কটিশদের ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতা ম্যাচটিতে বাংলাদেশের ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না। সর্বোচ্চ ৯৫ করেছিলেন তামিম ইকবাল। সেঞ্চুরি আসেনি গতকালও।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহের পেছনের কারিগর সাকিব-মুশফিক। ওয়ানডেতে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো শতরানের বেশি জুটি দাঁড় করালেন দুজন। তাদের ১৪২ রানের জুটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের যুগলবন্দির রেকর্ড এনে দিয়েছে। এর আগেরটি ছিল গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ১৪১ রানের জুটি। এছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শীর্ষ চার জুটির তিনটিতেই আছেন মুশফিক। দলের ব্যাটিং অর্ডারে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি। তার উপস্থিতির সবই শতরান পার করা জুটি।
মুশফিকের চেয়ে সাকিবের ব্যক্তিগত অর্জন বেশি। গতকালকের ৭৫ রান বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ ইনিংস। এর মধ্যে প্রথম ৫ রান করে ছুঁয়েছেন তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজার রানের মাইলফলক। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এ অর্জন গড়লেন সাকিব। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে এইডেন মার্করামকে আউট করে ক্যারিয়ারের ২৫০ ওয়ানডে উইকেট পূর্ণ করেন। এছাড়া গতকালকের হাফসেঞ্চুরিতে বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব গড়লেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৫৩, ২০১১-তে ভারতের বিপক্ষে ৫৫, ২০১৫-তে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৩ ও গতকালকের ম্যাচে ৭৫। আরও আছে, এই বিশ্বকাপে র্যাংকিংসেরা অলরাউন্ডার হয়ে শুরু করেছেন সাকিব। ২০১১ ও ’১৫ আসরেও শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। এতে ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপে শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে শুরু করেছেন বাংলাদেশ তারকা।
