বিভিন্ন জায়গায় ঝড়বৃষ্টিতে নৌপথে ঈদযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটেছে। ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় গতকাল রবিবার সকালে বরিশালসহ বেশ কয়েকটি এলাকার নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে সদরঘাটসহ কয়েকটি বন্দরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের পর সতর্ক সংকেত ১-এ নেমে আসায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হলেও যেকোনো মুহূর্তে ফের সংকেত বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঝড়বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কতা জারি রয়েছে। ঝড়ের গতি বাড়লে কিছু এলাকায় ২ নম্বর সতর্কতাও জারি করা হচ্ছে। যেকোনো সময় যে কোনো এলাকার নদীবন্দর এই সতর্কতার আওতায় আসতে পারে। ১ নম্বর সতর্কতার ক্ষেত্রে নদীপথে ঈদযাত্রায় শঙ্কা না থাকলেও ২ নম্বরের ক্ষেত্রে শঙ্কা রয়েছে। তখন নৌচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
ঈদ পর্যন্ত আবহাওয়ার এমন বৈরী অবস্থা থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে চলমান ঝড়বৃষ্টি ঈদের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঈদের দিনও ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে কমতে পারে।’
অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশেই ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার গতি ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ার শঙ্কাও রয়েছে। আজ ভোর ৪টা পর্যন্ত ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির শঙ্কা ছিল রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলে। এসব এলাকার পাশাপাশি আরও কিছু এলাকাতেও এই শঙ্কা অব্যাহত থাকতে পারে। যে কোনো মুহূর্তে এসব এলাকার নদীবন্দরে জারি হতে পারে ২ নম্বর সতর্কতা।
এদিকে ঝড়বৃষ্টির কারণে সারা দেশেই তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে। গত শনিবার সারা দেশের মধ্যে কেবল যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনায় মৃদু তাপপ্রবাহ থাকলেও গতকাল এসব এলাকার তাপমাত্রা ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত কমেছে। তবে কুতুবদিয়ায় প্রায় ৩ ডিগ্রি বেড়ে গিয়ে গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজও সারা দেশেই তাপমাত্রা হ্রাস অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বরিশালে সাত ঘণ্টা নৌচলাচল বন্ধ : বরিশাল প্রতিনিধি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গতকাল বরিশালে প্রায় সাত ঘণ্টা সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির করে বিআইডব্লিউটিএ। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার দেশ রূপান্তরকে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লারসহ সকল যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়।
