শিক্ষার্থীকে ‘ফাঁসাতে চাওয়া’ দুই এসআইকে গণধোলাই

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ০২:৩৪ এএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সজীব নামের এক শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে পুলিশের দুই উপপরিদর্শককে (এসআই)  গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। গত শনিবার রাতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শম্ভুপুরের পাক্কারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই এসআই হলেন আবুল খায়ের ও আজিজুল হক।

সজীবের বাবা ও মুদিদোকানি সাব মিয়ার অভিযোগ, তার ছেলে ভৈরব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মদের বোতল দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তার ভাষ্য, ওই দিন সন্ধ্যায় সজীব তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঈদের কেনাকাটা করতে ভৈরব বাজারে যায়। বাজার থেকে ফেরার পথে চাঁন্দভান্ডার দরবার শরিফের সামনে আটকে সজীবের গায়ে মদ ছিটিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পরে সজীব মোটরসাইকেল নিয়ে কৌশলে তার এলাকা শহরের পাক্কারমাথায় চলে আসে। কিন্তু এসআই আবুল খায়ের ও আজিজুল হক তার পিছু নেন। তারা সজীবকে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পড়ে। ওই দুই পুলিশ সদস্য সাদাপোশাকে থাকায় স্থানীয় লোকজন ছিনতাইকারী ভেবে তাদের গণধোলাই দেয়। গণধোলাইয়ের একপর্যায়ে এসআই আজিজুল ঘটনাস্থল         

থেকে সটকে পড়েন।

খবর পেয়ে ভৈরব থানার এসআই মোখলেছুর রহমান রাসেল ও অভিজিৎ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আবুল খায়েরকে উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ আলী (৪০), মিজান মিয়া (৪২), মো. ইয়াকুব (৩৮) ও রহিম মিয়া (৪০) নামের চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরে ভোরে সাহরি খাওয়ার সময় সজীবের বাবা সাব মিয়াকেও আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে দুই এসআই আবুল খায়ের ও আজিজুল হক জানান, গত শনিবার রাতে সন্দেহ হলে সজীবকে তল্লাশি করেন তারা। ওই সময় সজীবের কাছে একটি মদের বোতল পাওয়া যায়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে সে কৌশলে মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় চলে যায়। তাকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা ভুল বুঝে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

ভৈরব থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে একটি ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। পরে সেটির অবসানও হয়েছে। আটক ব্যক্তিদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভৈরব সার্কেলের এএসপি রেজওয়ান দীপু বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত