ট্রাকে যাত্রী ওঠাতে পুলিশকে ১৫০০ টাকা!

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৯, ০২:২৯ এএম

ঈদযাত্রায় বাসের টিকিট না পেয়ে ট্রাকেই বাড়ির পথে ছুটছেন শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের লোকজন। এ জন্য ট্রাকপ্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে ট্রাকচালকদের। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকাই যাচ্ছে পুলিশের পকেটে। গতকাল সোমবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এই চিত্র চোখে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশের পক্ষে চাঁদা আদায়কারীরা যাত্রী পরিবহনের জন্য দাঁড় করানো প্রতিটি ট্রাক থেকে দুই হাজার টাকা করে নিচ্ছে। এ সময় পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আবেদ হোসেনের ছবি হাতে এক নারীকে গাড়িগুলোতে যাত্রী উঠিয়ে দিতে দেখা যায়। একই কাজ করছিলেন রিয়াজ নামে কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য। এ সময় পুলিশের এসআই রফিক ও কনস্টেবল সবুজ দাঁড়িয়ে থেকে টাকা আদায়ে সহযোগিতা করেন। যাত্রী উঠিয়ে দেওয়ায় সহযোগিতাকারীরা ৫০০ টাকা নিয়ে বাকি ১ হাজার ৫০০ টাকা পুলিশকে পৌঁছে দেন।

দিনাজপুরগামী একটি ট্রাকের চালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমি ট্রিপ নিয়ে গাবতলীতে আসছিলাম। ফেরার পথে রাস্তায় অনেক যাত্রী দেখে গাড়ি দাঁড় করাই। এ সময় একজন এসে বলে ৫০০ টাকা দিলে যাত্রী ভরে দিব। আর পুলিশের জন্য পার্কিং খরচসহ দুই হাজার টাকা দিতে হবে। আমি রাজি হয়ে গেলে তারা কয়েকজন মিলে আমার গাড়ি ভরে দেয়।’

স্থানীয় লালন টাওয়ারের উত্তরবঙ্গগামী বাস কাউন্টারে কর্তব্যরত মনির হোসেন বলেন, যানজটের কথা বলে গাড়ি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠাতে বাধা দেয় পুলিশ। পরে প্রতিটি কাউন্টার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে যাত্রী ওঠানোর অনুমতি দেয় তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাভার চামড়াশিল্প নগরী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম নবী শেখ বলেন, ‘আমি বা আমার কোনো লোক কোনো কাউন্টার থেকে টাকা নিইনি। এটা ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে থাকতে পারে।’

হেমায়েতপুর সুপার মার্কেটের সামনে ট্রাফিক বক্সে ট্রাফিক পরিদর্শক আবেদ হোসেনের কাছে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে না। সড়কে কর্মরত কিছু ছেলেপেলে বিভিন্ন গাড়ি থেকে ১০-২০ টাকা করে নিয়ে থাকে।’ তার ছবি হাতে টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে মাথাব্যথার অজুহাতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত