ঈদে ভোজনবিলাসেও সুস্থ থাকার দাওয়াই

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৯, ১২:০৫ পিএম

ঈদের দিন পার হলো। কিন্তু উদযাপন তো শেষ হয়নি। আগামী ক’দিন চলবে ঘোরাঘুরি আর খাইদাই। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বাড়ির দাওয়াত; এছাড়া নিজের ঘরের খাবার টেবিলে তো থাকছেই হরেক রকমের খাবার। কিন্তু গত এক মাসে শরীর তো পরিমিত খেয়ে অভ্যস্ত হয়েছে। হঠাৎ খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া হজমে সমস্যা এবং বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। কিন্তু সুস্বাদু হরেক রকমের খাবার ঈদ উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।

কিছু টিপস মেনে চললে আপনার ঈদ উদযাপন হবে প্রাণবন্ত ও স্বাস্থ্যকর-

ব্যায়াম করতে ভুলবেন না: ব্যায়াম শরীর ও মন সতেজ ও ফুরফুরে করে তুলবে। ব্যায়ামের ফলে শরীর থেকে ভালো অনুভূতির হরমোন নিঃসরণ হয়। এতে আপনার মন ভালো থাকে এবং ক্ষুধাবর্ধন করতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটলে রোগবালাই দূরে থাকবে এবং মনে চাঙ্গা অনুভূতি জন্মাবে। ভোরে যারা হাঁটাহাঁটি করলে বিকেলে বা দুপুরে নান, মাটন বিরিয়ানি খেলেও মনে অপরাধবোধ জন্মাবে না।

শাক-সবজি বাদ দেওয়া যাবে না:  ভাজাপোড়া খাওয়া থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরুতেই শাকসবজি খেতে হবে। খাওয়ার শুরুতে শাকসবজি খেলে ক্ষুধা কমিয়ে দেবে। শাক ভাজি বা এক বাটি সালাদ খাওয়ার পর মুখরোচক খাবার পাতে নিন।

ব্যায়াম অনুযায়ী খাওয়া নিয়ন্ত্রণ: ওজন কমানোর মধ্যে থাকলে প্লেট থেকে প্রিয় খাবারগুলো সরিয়ে ফেলুন। এরপর খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়ে খান। এতে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবেন। মনোযোগ দিয়ে খেলে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গল্প করে বা খাওয়ার সময় মনোযোগ অন্যদিকে থাকলে প্রয়োজন অনুপাতে বেশি খাওয়া হয়।

কোমল পানীয়: আমাদের ধারণা যে কোমল পানীয় তৈলাক্ত খাবার হজমে সহায়ক। কিন্তু বাস্তবতা বিপরীত। এসব বেভারেজে প্রচুর চিনি থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

প্রচুর ফলমূল খান: কোনো উৎসব-অনুষ্ঠানে আমরা সাধারণত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করি। এসব মুখরোচক খাবারগুলো কম খাওয়াই উত্তম। এর পরিবর্তে প্রচুর খেঁজুর, টাটকা ও শুকনো ফল খেতে পারেন।

বার বার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন: মনে রাখবেন, আমরা বেঁচে থাকার জন্য খাই, খাওয়ার জন্য বাঁচি না। তাই ক্ষুধা পেলেই কেবল খাওয়া উচিত। মুখের স্বাদের জন্য বেশি বেশি খাওয়া যাবে না। শরীর কী চাইছে সেই দিকে মনোযোগ দিন। একবার খাওয়া হয়ে গেলে টেবিল থেকে উঠে পড়ুন। খাবার টেবিলের আশপাশেই থাকবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত