৫ জুন, ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে অর্চিতা স্পর্শীয়া অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আবার বসন্ত’। অনন্য মামুনের এ ছবিটির ভেতর দিয়ে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় অভিষেক ঘটল স্পর্শীয়ার। ছবি ও নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে।
প্রথমবার বড় পর্দায় আপনি, কেমন লাগছে?
অনেক ভালো লাগছে। বলে বোঝাতে পারব না। এখন পর্যন্ত ভালো রেসপন্স পাচ্ছি।
ছবিতে আপনার নায়ক তারিক আনাম খান। বয়সের একটা বিশাল পার্থক্য? শুটিংয়ের সময় বয়স কোনো সমস্যা তৈরি করেছে কিনা?
কোনো সমস্যা হয় নাই। আমাদের রসায়নটাও ভালো ছিল। না হলে তো শুটিং করা যায় না। এটা একটা টিম ওয়ার্ক। আমাদের পুরো টিমের মধ্যেই একটা ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা...
কম সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। ফলে শুটিং স্পটে কোনো মজা করতে পারি নাই। অনেক চাপ ছিল শুটিংয়ে।
গল্পের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কেমন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
যেকোনো কিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সেটাকে বোঝার খুব দরকার হয়। সেটা গল্প হোক, সেটা চরিত্র হোক বা যাই হোক। যেকোনো কিছুর সঙ্গে যদি নিজেকে অ্যাডজাস্ট করতে হয় তো আগে সেটাকে বুঝতে হয়। আমিও বোঝার চেষ্টা করেছি। বাকিটা আমি জানি না। আমি খুব হিসেবি অভিনেত্রী না।আমার ভেতরে ন্যাচারাল যা আসে সেটাই করার চেষ্টা করি। তো আমাকে ডিরেক্টর বলে দেয় যে এটা এ রকম ক্যারেক্টার, তো ওটাকেই আমি নিজের মতো করে নিজের মধ্যে নিয়ে আমার মতো কাজটা করার চেষ্টা করি। এটা নিয়ে কোনো রকমের ক্যালকুলেশনে যাই না।
এই ঈদে আপনার সঙ্গে আরও দুই নায়িকার ছবি মুক্তি পেয়েছে…
আমি কোনো ধরনের প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী না। দ্বিতীয়ত বাকি যে দুইটা সিনেমা তাদের সাবজেক্টের সঙ্গে ‘আবার বসন্তে’র কোনো মিল নেই। না নায়িকার সঙ্গে, না নায়কের সঙ্গে। আমাদের সিনেমার জনরা অনেক ডিফারেন্ট। ইভেন আমি আর্টিস্ট হিসেবে বা শিল্পী হিসেবেও আমার আলাদা জনরা আছে। তাদের সঙ্গে যদি আমাকে মেলানো হয় বা আমাকে তাদের সঙ্গে কমপেয়ার করা হয় তাহলে সেটা হবে ভুল ডিসিশন। কারণ তারা এক ধারায় কাজ করে আমি আরেক ধারায় কাজ করি। অনেক তফাৎ আছে। কোনো প্রতিযোগিতা নেই।
আপনার প্রথম ছবি ‘বন্ধনে’র কি খবর?
অনন্য মামুনের ‘বন্ধন’ হচ্ছে আমার করা প্রথম সিনেমা। দুই তিন বছর হয়ে গেছে শুটিং করেছি। এখনো রিলিজ পায়নি। তবে যতটুকু জানি এই বছর ছবিটি মুক্তি পেতে পারে।
অনন্য মামুনের দুটি ছবি করেছেন। অনন্য মামুন আসলে কেমন?
অনন্য মামুন পরিচালক হিসেবে খুব ভালো। ও খুব ক্লিয়ার যে ও কি চায়। আর ও এটাও জানে যে, ও কি চায় না। এটা অনেক বড় একটা দিক। কারণ পরিচালক যদি কনফিউজড থাকে তাহলে আর্টিস্টরাও কনফিউজড হয়ে যায়। আর ও অনেকটাই এক্সেপশনাল। আমি যদি বলি আমি মামুন এটা এমন না ওটা ওরকম হলে ভালো হয়। ও বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। এটাকে রেসপেক্ট করে। ও অনেক ওপেন মাইন্ডের। পারসোনালি যদি বলি তাহলে ও এমন একজন মানুষ- ওর কাছে যদি আপনি কোনো সাহায্য চান তাহলে ও না করবে না। ওর কোনো শত্রুও যদি সাহায্য চায় তাহলেও সে হেল্প করবে। সে এ রকম মানুষ।
এ যাবৎ চারটি ছবিতে অভিনয় করেছেন আপনি। একটি মুক্তি পেল। বাকি তিনটি কী রকমের?
আমার চারটি ছবি চার রকমের। অনন্য মামুনের ছবি ‘বন্ধন’ মেইন জনরা মানে বাণিজ্যিক, ‘আবার বসন্ত’র জনরা ড্রামা। নুরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’ মিক্সড জনরার। আর নিয়ামুল মুক্তার ‘কাঠবিড়ালি’ থ্রিলার ফিল্ম।
এই চারটি ছবির ভেতরে কোন ছবিটা নিয়ে আপনি বেশি আশাবাদী। বা কোন ছবিটা আপনার ক্যারিয়ারে মাইলফলক তৈরি করবে?
আমি এই সব হিসাব নিকাশ করি না। আমি এসব হিসাব নিকাশ করতে পারিও না। ক্যারিয়ারে কোনটা কি হবে, এসব নিয়ে ভাবতে পারি না। গল্প ভালো লাগলে, চরিত্র ভালো লাগলে, আমার যেহেতু অভিনয় ভালো লাগে তাই অভিনয় করি। কিন্তু কোনটা করলে কি হবে, কোনটা আমার ক্যারিয়ারে কি যোগ করবে বা কোনটার বেনিফিট বেশি হবে, কি প্লাস করবে কি মাইনাস করবে এসব ক্যালকুলেট আমি কখনোই করি না। আমি আসলে একটু বোহেমিয়ান টাইপের মানুষ।
ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দায় পা রেখেছেন। দুই আড়াই বছর ধরেই আপনাকে ছোটপর্দায় আর দেখা যায় না। আপনি কি আর কখনোই ছোটপর্দায় ফিরবেন না?
আমি সিনেমা করছি তো এখন, আমি সিনেমা নিয়েই থাকতে চাই। জগা খিচুড়ি হতে চাই না। দুইটা দুই প্ল্যাটফর্ম তো। দুইটা মিকসডআপ করার মতো ট্যালেন্টেড মানুষ আমি না। আমি আসলে একই সময়ে একটার বেশি কাজ করতে পারি না। আমি যেহেতু সিনেমা করছি তাই সিনেমাই করব।
