আনন্দ বইছে বিনোদনকেন্দ্রে

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ০১:২১ এএম

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পাল্টে গেছে রাজধানীর চেনা রূপ। রাস্তায় নেই আগের মতো যানজট। এই সুযোগে পরিবার নিয়ে বিনোদন ও অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন রাজধানীবাসী। ঈদের দিন গত বুধবার বৃষ্টি থাকায় বিনোদনকেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। পরের দিন আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। 

এদিন পরিবারের সদস্যদের পদচারণায় মুখর ছিল শ্যামলীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ান্ডারল্যান্ড, যা আগে শিশুমেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বাড়তে থাকে ভিড়। প্রতিটি রাইডের সামনেই ছিল একই চিত্র। শিশুদের সঙ্গে বড়রাও চড়েছেন বিভিন্ন রাইডে। মিরপুরের চিড়িয়াখানাতেও দর্শনার্থীর সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বাঘ ও বানরের খাঁচায় উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। হাতিরঝিলেও বিপুল মানুষের ঢল ছিল। ঈদের প্রথম দিন তেমন লোকসমাগম না থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ঢল অব্যাহত থাকে। লোকজন স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করেছেন হাতিরঝিল ও ঝিলপাড়ের সৌন্দর্য।

বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি নগরীর সিনেমা হলগুলোতেও ভিড় করছেন নগরবাসী। পছন্দের চলচ্চিত্রগুলো উপভোগ করে পার করেন ঈদের তৃতীয় দিন। এ ছাড়া গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, ধানমণ্ডি লেক, সংসদ ভবন চত্বর, চন্দ্রিমা উদ্যান, বিমানবাহিনী জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থানে লোকসমাগম দেখা গেছে।

ঢাকার আজিমপুর থেকে ধানমণ্ডি লেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান হাবিবুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের সময় ঢাকায় ঘুরতে একটু বেশি সুবিধা। এমনিতে ছুটির সময়, তা ছাড়া বিশেষ সুবিধা হলো রাস্তা থাকে ফাঁকা, সহজে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছি। বড় মেয়ের ইচ্ছায় ধানমণ্ডি লেকে আসলাম। ভালো লাগছে। ঘুরছি, সবাইকে নিয়ে লেকের পানিতে নৌকায় চড়লাম।’

উত্তরা থেকে পোশাক ব্যবসায়ী বিলাল হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যান। ফটকের সামনে কথা হয় এই দম্পতির সঙ্গে। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণত উত্তরা থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানায় আসতে অনেক সময় আসা-যাওয়া, ঘোরায় সারা দিন পার হয়ে যায়। এখন রাস্তা ফাঁকা; খুব তাড়াতাড়ি চলে আসছি। চিড়িয়াখানা ঘোরা শেষ হলে ওখান থেকে চলা যাব বসন্ধুরায় সিনেমা হলে মুভি দেখে। রাতে বাসায় ফিরব।’

পুরান ঢাকা থেকে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে শ্যামলীতে ওয়ান্ডারল্যান্ডে ঘুরতে যান কাপড় ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের পছন্দের জায়গাগুলো আগে রাখা হয়েছে। মেয়ে বিন্দু আগে থেকে বলে রেখেছে, বাবা মেলায় গিয়ে রাইডে উঠব।’

লালবাগ কেল্লায় ঘুরতে আসা (ছদ্মনাম) শারমিন ও আজাদ। তাদের একজন বলেন, ‘লালবাগ কেল্লা আমার খুব পছন্দ। অনেক আগে একবার এসেছিলাম। এবার দ্বিতীয়বার পছন্দের জায়গায় দুইজন একসঙ্গে ঘুরতে আসলাম।’

মিরপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের দিন তেমন ভিড় না থাকলেও গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার চিড়িয়াখানায় আসে দুই লাখের মতো দর্শনার্থী। আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবারও দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত