ঈদের ছুটিতে জমে উঠেছে চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়’স লেক কনকর্ড এমিউজমেন্ট পার্ক, চিড়িয়াখানাসহ দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরীর বিভিন্ন শিশু পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো। কর্মব্যস্ততার কারণে যে মানুষগুলো সাধারণত বেড়ানোর ফুরসত পান না, তারাও ঈদের ছুটিতে ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে।
চট্টগ্রাম নগরীতে হাতেগোনা যে ক’টি বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও ফয়’স লেক। সারা বছর এসব জায়গায় দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকলেও ঈদের ছুটিতে সেসব জায়গা ভরে ওঠে কানায় কানায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন বিকেল থেকেই দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে ভিন্ন রূপ পায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। সমুদ্রতীরে বসে কারও দৃষ্টি যাচ্ছে দূর সমুদ্রে ভাসতে থাকা সারি সারি পণ্যবাহী জাহাজের দিকে, আবার কারও চোখ সাগর তীরে আচড়ে পড়া বড় বড় ঢেউয়ে। কেউ কেউ তীরের কাছাকাছি সাগরে নেমে আনন্দ উপভোগ করছেন। কেউ হাঁটছেন ব্লকে তৈরি ওয়াকওয়ে দিয়ে। ঘোড়ায় চড়ে বা স্পিড বোটে সমুদ্র ঘুরে আসার মধ্য দিয়েও অনেকে খুঁজে নিচ্ছেন বিনোদন। সৈকতে গড়ে ওঠা রেস্টুরেন্টগুলোর খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন কেউ কেউ।
পতেঙ্গা সৈকত এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় সৈকতের চেহারা বদলে গেছে। এতে এ স্পটের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণ বেড়েছে। তিনি জানান, ঈদের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিনই বিকেলে লোকারণ্য হয়ে ওঠছে সৈকত এলাকা।
নগরীর বহদ্দার হাট থেকে সপরিবারে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যাওয়া সালমান শরীফ বলেন, ঈদের ছুটিতে সবাই চায় কোথাও একটু ঘুরতে। কিন্তু নগরীতে বেড়ানোর মতো পছন্দসই জায়গা খুব একটা নেই। তাই এতদূরে ছুটে আসা। তিনি বলেন, সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে দূর সাগরের জলরাশির দিকে তাকালে মন জুড়িয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা বড় বড় জাহাজ দেখার সুযোগ আর কোথাও নেই।
নগরীর আরেকটি জনপ্রিয় বিনোদন স্পট ফয়’স লেক কনকর্ড এমিউজমেন্ট পার্কে ঈদের ছুটিতে ভিড় জমছে বিনোদনপিপাসুদের। সেখানে বোটে করে পাহাড়ঘেরা লেকে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করছে কেউ কেউ। আবার কেউ ছুটে যাচ্ছে সি ওয়ার্ল্ডের সুইমিংপুলে। বাচ্চাদের রাইডসগুলোতে পড়েছে দীর্ঘ লাইন।
পতেঙ্গা কিংবা ফয়’স লেক ছাড়াও অন্য বিনোদনকেন্দ্রগুলোও ঈদের ছুটিতে মুখর হয়ে উঠছে সব বয়সী মানুষের পদচারণায়। এর মধ্যে রয়েছে কাট্টলী সমুদ্রসৈকত, পাহাড়তলী চিড়িয়াখানা, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা পার্ক, পতেঙ্গা প্রজাপতি পার্ক, কাজীর দেউড়ি শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ শিশু পার্ক, পতেঙ্গা প্রজাপতি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র।
