চাঁদ দেখা

দুই ঘোষণার ব্যাখ্যা দিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ০২:০৮ এএম

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি জানিয়ে বৃহস্পতিবার ঈদ উদ্যাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। কিন্তু পরে আবার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদ দেখার কথা বলে বুধবারই ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। ঈদের আগের

দিন গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে সে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির দ্বিতীয় দফা বৈঠকের পর গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ওই সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানের সংশোধিত সংবাদ প্রাপ্তির মাধ্যমে জানা গেছে যে, আজকে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেছে। সে মতে, আগামীকাল বুধবার সারা দেশে ঈদুল ফিতর পালন করা হবে।’

সন্ধ্যায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করে কেন বৃহস্পতিবার ঈদ উদ্যাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে চাঁদ দেখা কমিটি আছে। সে কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রধানরা আছেন। চাঁদ দেখা কমিটিতে সবাই আছেন এবং বাংলাদেশের বড় বড় মসজিদ-মাদ্রাসার খতিবরা আছেন। তাদের নিয়েই আমরা মাগরিবের নামাজের পর চাঁদ দেখা কমিটির আলাপ-আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে বসেছিলাম।’

শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন মাগরিবের নামাজের পর চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা। সে মতে, মাগরিবের নামাজ আদায় করার পর বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় আমাদের যে চাঁদ দেখা কমিটি আছে, সব জেলায় চাঁদ দেখা কমিটির মিটিং হয় এবং কোথাও যদি চাঁদ দেখা যায়, তা হলে সরাসরি ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং আমাদের কমিটিকে জানানো হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব জেলা থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত চাঁদ দেখার খবর পাইনি আমরা, খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যে এই খবর নিয়েছেন তা নয়; আমাদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার যে মুফতিগণ থাকেন আমরা তাদেরও বলেছিÑ যেহেতু বিষয়টি কোরআন হাদিসের আলোকে এবং শরিয়ত মোতাবেক ঘটনা, এ ব্যাপারে আপনাদের দায়িত্ব প্রধান। আপনাদেরও বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারাও আপনাদের মতো বিভিন্ন এলাকা থেকে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আমাদের ওলামায়ে কেরামগণ তাদের মতো করে খোঁজখবর নিয়েছেন।’

বড় বড় আলেমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জানিয়ে শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘যেমন চরমোনাই পীর সাহেব হুজুররাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, আমরাও যোগাযোগ করেছি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিখ্যাত জায়গায় আমাদের হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকার সব মুফতি বসে মিটিং করেছেন। তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজে মাওলানা আহমদ শফীর (হেফাজত আমির) সঙ্গে যোগাযোগের তিনি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, সেটা ছিল এ রকমÑ আমরা সারা দেশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম, এখন পর্যন্ত ঈদের চাঁদ কোথাও দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘উনার (শফী) সঙ্গে এবং সব আলেম-ওলামার সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা ঘোষণাটা দিয়েছিলাম এবং সব জায়গায় তারাবির নামাজ হবেÑ এ ঘোষণাও দিয়েছিলাম।’

ওই ঘোষণার পর নিজেরাও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তারাবির নামাজ পড়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। রাত সোয়া ১০টার দিকে প্রথম চাঁদ দেখার খবর পান বলেও জানান তিনি।

শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘নামাজের পর মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব আমাকে জানান যে, আমাদের সংশোধিত খবর আছে। তিনি এবং আরও কয়েকজন প্রধান মুফতি আমাদের জানান যে, আমরা চাঁদ দেখার খবর পেয়েছি এবং খবর পাওয়ার পর শরিয়ত মোতাবেক যেভাবে খোঁজখবর নেওয়া দরকার সেভাবে খোঁজখবর নিয়েছি।’

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এবং পাটগ্রাম উপজেলার ইউএনও সাত ব্যক্তির সরাসরি চাঁদ দেখার কথা তাদের জানিয়েছেন বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘শরিয়ত মোতাবেক দুজন ইমানদার ব্যক্তি চাঁদ দেখার ঘোষণা দিলে শরিয়ত বলে সে ঘোষণা মেনে নেওয়া দরকার। অতএব আমরা আমাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, শরিয়ত মোতাবেক কোরআন এবং হাদিস অনুযায়ী যেটা কমিটির করা উচিত, সেটাই আমরা আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম। আর বর্তমানে নতুন করে যে ঘোষণাটি দিচ্ছি, সেটাও শরিয়ত মোতাবেক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত