নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে বের হয়ে এক পোশাককর্মী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া-মদন সড়কের পাশে দুলাল মিয়ার শাপলা ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ওই তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বামী সুমনের ‘চক্রান্তে’ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে নির্যাতিত পোশাককর্মী অভিযোগ করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর (২১) বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলায়। হাসপাতালে দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, নেত্রকোনার মদন উপজেলার জাউলা গ্রামের সুমনের (২২) সঙ্গে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার একটি সোয়েটার কারখানায় কাজ করেন তিনি। কিছুদিন আগে পরিবারের অসম্মতিতে ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসার পর সুমন মদন থেকে এসে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। পথে কেন্দুয়া-মদন সড়কের দুলাল মিয়ার শাপলা ইটভাটার কাছে আসতেই মোটরসাইকেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সুমনের নাম্বারে বারবার ফোন আসছিল। মোটরসাইকেলটি কয়েকবার স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করার পর নষ্ট হয়ে গেছে বলে তা ঠেলতে থাকে সুমন। তখন ইটভাটা থেকে তিনজন যুবক বেরিয়ে এসে তাদের ধরে ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে সুমনকে বেঁধে রেখে ওই তিন যুবক তাকে ধর্ষণ করে। পরে ওই যুবকরা সুমনকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।
সুমনের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন ওই পোশাককর্মী।
কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরিবারের সদস্য এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর দুপুরে ধর্ষিতাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। কারণ ওই নারীকে হোন্ডায় করে নিয়ে আসার সময় তার কথিত স্বামীর ফোনে বারবার ফোন আসছিল। সেইসঙ্গে হোন্ডা নষ্ট হওয়ার পর তা আবার কী করে স্টার্ট নিল এই ব্যাপারটা একটু রহস্যজনক। অভিযুক্ত সুমনকে আটক করতে পারলে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।’
নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, ‘ওই তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
