রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এতে বন্দর দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে গতকাল শনিবার পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু দিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সরকার ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। আর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে মানুষ রেলপথেই বেশি যাতায়াত করত। কিন্তু পরে রেলকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। ডাবল লাইন নির্মাণ করা হলে সড়কের ওপর এত চাপ পড়ত না। ১৯৮৬ সালে রেলে নিয়োগ বন্ধ হয়। বিএনপি-জামায়াত ১০ হাজার রেলকর্মী ছাঁটাই করে রেল ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার আধুনিকায়ন করে সেবা বাড়িয়ে রেলের প্রতি যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোতে ডাবল লাইন করা হচ্ছে। এতে রেলপথেই তারা কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। ফলে সড়কের ওপর চাপ কমবে। সড়কে যানজটও হবে না।
ব্যবসায়ীদের শুধু মুনাফার কথা বিবেচনায় না নিয়ে জনহিতকর কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। এ সময় তিনি রেলের টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আব্দল হান্নান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড় পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, বোদা পৌর মেয়র ওয়াহিদুজ্জামান সুজা, পঞ্চগড় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, আটোয়ারী উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, দেবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী ও বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবিকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
