পারিবারিক কলহের জের

ছুরি মেরে শাশুড়িকে হত্যা করল পুলিশ সদস্য

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ০২:২৯ এএম

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক পুলিশ কনস্টেবলের ছুরিকাঘাতে তার শাশুড়ি শেফালী অধিকারী (৪৮) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ফাল্গুনী অধিকারী এবং শ্যালক আনন্দ অধিকারী। গতকাল শনিবার ভোরে শহরের মাদ্রাসাপাড়ায় এ হামলার ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন অভিযুক্ত কনস্টেবল অসীম ভট্টাচার্য। গুরুতর আহত ফাল্গুনী ও আনন্দকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত কনস্টেবল অসীম ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ওই বাড়িটির উল্টো দিকে তার শ্বশুর সদানন্দ অধিকারীর বাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, অসীম ও ফাল্গুনী দম্পতির মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ দেখা দিত। শনিবার ভোরেও তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ফাল্গুনী পাশেই বাবার বাড়ি চলে যান।

আহত আনন্দ অধিকারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিদি আমাদের বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পরই জামাই বাবু (অসীম) আমাদের বাড়িতে আসে। এ সময় দিদি গেট খুলতেই তাকে ছুরিকাঘাত শুরু করে জামাই বাবু। তখন মা (শেফালী অধিকারী) ও আমি ছুটে এসে জামাই বাবুকে ঠেকাতে গেলে আমাদেরও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আমার মায়ের।’

নিহতের স্বামী সদানন্দ অধিকারী বলেন, ‘নয় বছর আগে অসীমের সঙ্গে বিয়ে হয় মেয়ে ফাল্গুনীর। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নানা কারণে আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করত অসীম। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে একটি সন্তান এলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।’

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে ভোরেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক আছে কনস্টেবল অসীম।

জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো ঘটনা আমাদের কাছে একটু জটিল মনে হচ্ছে। তবে এটি পরিষ্কার যে ওই দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। অসীমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত