প্যারালাইসিস রোগটির কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। এ রোগে আক্রান্ত রোগীও হয়তো দেখেছেন। তবে এ রোগীর চিকিৎসা ও পরিচর্যা সম্পর্কে হয়তো অনেকেই অবগত নন। বিভিন্ন কারণে প্যারালাইসিস হয়। ডাক্তার চিকিৎসা করলেও পরিচর্যা করতে হবে রোগীর পাশে যারা থাকবেন তাদেরকেই। সঠিকভাবে চিকিৎসা ও সেবাযতে এই রোগী ভালো হয়।
উপসর্গ :
# হাত বা পা নড়াচড়া করতে না পারা, হঁাঁটতে অসুবিধা
# দাঁড়াতে অসুবিধা হওয়া বা দাঁড়াতে না পারা
# বসতে অসুবিধা হওয়া বা বসতে না পারা
# অনেক সময় রোগীর এক পাশের হাত বা পা অবশ হয়ে যায়
# কথা বলতে না পারা বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া
# চোখে কম দেখা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা
প্যারালাইসিসের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। যেমন- উচ্চ রক্তচাপের জন্য প্যারালাইসিস হলে এন্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে রক্তচাপ খুব সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে কমাতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা থাকলে সমস্যাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
পরিচর্যার ক্ষেত্রে-
# অজ্ঞান রোগীদের নাকের মাধ্যমে পরিমিত পরিমাণে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। আধা ঘণ্টা পরপর রোগীর পজিশন পরিবর্তন করতে হবে।
# রোগীকে প্রস্রাব-পায়খানা করানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দরকার হলে ক্যাথেটার, বেডপ্যান ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
# রোগীর শরীরের সব জয়েন্টের প্রতি যতœবান হতে হবে যাতে জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে না যায়। এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যায়াম করাতে হবে।
# বিভিন্ন প্রকার ফিজিক্যাল থেরাপি যেমন ইনফ্রারেড, শর্টওয়েভ ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন থেরাপি প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে হবে।
বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোগীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। কথা স্পষ্টভাবে বলার জন্য স্পিচ থেরাপি দিতে হবে। রোগীর হাঁটাচলার জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রয়োজনে গেট ট্রেনিংয়ের আওতায় প্যারালাল বার ওয়াকিং, রোলেটর ওয়াকিং ও ক্র্যাচ ওয়াকিং এমনকি লাঠির সাহায্যে হাঁটার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যদি কোনো রোগী হাঁটতে অক্ষম হয় তবে হাত ও পায়ের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
স্যাঁতসেতে ফ্লোর থাকলে কার্পেট দিয়ে মুড়ে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় হাতল দিয়ে চলাচলের সুবিধা করে দেওয়া, বাথরুমে উঁচু কমোড তথা ধরে বসার জন্য ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এই পরিবর্তন রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী করতে হবে। সর্বোপরি তার আমোদ প্রমোদ তথা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারার ব্যবস্থা করে দিতে হবে, যাতে সে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে। ডা. এ. এইচ. মামুন ভূঁইয়া
বাত ব্যথা, প্যারালাইসিস ও প্রতিবন্ধী রিহ্যাব বিশেষজ্ঞ
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়
চেম্বার : পেইন কিউর ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শহীদ আমির হোসেন রোড, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
০১৭১১০৬৯০৮৭
০১৯১২-৯৫৮৫০৯
