এক তারকা থেকে পাঁচ তারকা পর্যন্ত হোটেল ও রিসোর্টের সেবার ধরন নির্ধারণ করে দিয়ে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিধিমালা সংশোধন করেছে সরকার। তারকা মানের হোটেলগুলোতে কী কী সেবা থাকতে হবে ও সেসব সেবার জন্য কী পরিমাণ কর্মচারী থাকতে হবে তা অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত বিধিমালাটি সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তারকা মানের হোটেলগুলোতে নিয়োগ দেওয়া কর্মচারীদের সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে এতে। কোন মানের হোটেলে কতটি কক্ষ থাকতে হবে, কক্ষের আয়তন কত হবেÑ তারও উল্লেখ আছে সংশোধিত বিধিমালায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এক তারকা মানের হোটেলের মোট কর্মচারীর ১০ শতাংশ, দুই তারকা হোটেলের কর্মচারীর ২০ শতাংশ, তিন তারকা হোটেলের ৩০ শতাংশ, চার তারকা হোটেলের ৪০ শতাংশ ও পাঁচ তারকা হোটেলের কর্মচারীর ৫০ ভাগ সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। এক তারকা হোটেলে কমপক্ষে ১০টি কক্ষ থাকতে হবে। দুই তারকার ক্ষেত্রে তা ৩০টি, তিন তারকার ক্ষেত্রে ৫০টি, চার তারকার ক্ষেত্রে ৭৫টি ও পাঁচ তারকা হোটেলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০০টি কক্ষ থাকতে হবে। এক তারকা হোটেলের কক্ষগুলোতে এয়ারকন্ডিশনিং ও হিটিং ব্যবস্থা রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। তবে দুই তারকা হোটেলের মোট কক্ষের কমপক্ষে ২০ ভাগ, তিন তারকা থেকে পাঁচ তারকা পর্যন্ত হোটেলগুলোর সকল কক্ষে ও কমন স্পেসে এয়ারকন্ডিশনিং ও হিটিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিন, চার ও পাঁচ তারকা হোটেলে হেয়ার ড্রায়ার, ওভেন ও সমজাতীয় অন্যান্য ব্যবস্থা, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে বিল দেওয়ার ব্যবস্থা, বুফে ব্যবস্থায় সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার ও মিনি রেফ্রিজারেটর (ছোট ফ্রিজ), প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক ঠা-া ও গরম পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক তারকা থেকে পাঁচ তারকা পর্যন্ত হোটেলে সেবার তালিকা ও সেবা মূল্য প্রদর্শন করতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, এক তারকা হোটেলের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুই তারকা হোটেলে কমপক্ষে ১০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিন তারকার ক্ষেত্রে ৫০টি, চার তারকার ক্ষেত্রে ৭৫টি ও পাঁচ তারকার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক তারকা হোটেলে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি সংশোধিত বিধিমালায়। তবে দুই তারকা মানের হোটেলের ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। তিন, চার ও পাঁচ তারকা হোটেলে কনফারেন্স কক্ষসহ প্রতিটি কক্ষে ও উন্মুক্ত স্থানে ওয়াই-ফাইসহ তারযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ, ফ্যাক্স, ফটোকপিয়ার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ বিজনেস সেন্টার থাকতে হবে। এসব হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইট, অনলাইন রিজার্ভেশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৩০ মে জারি করা বিধিমালায় বলা হয়েছে, এক তারকা হোটেলের কমপক্ষে ৫০ ভাগ কক্ষে সংযুক্ত স্নানাগার (গোসলখানা) থাকতে হবে। দুই ও তিন তারকার ক্ষেত্রে শতভাগ কক্ষে স্নানাগার থাকতে হবে। আর চার ও পাঁচ তারকা হোটেলের শতভাগ কক্ষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানে সংযুক্ত স্নানাগার থাকতে হবে। বাথরুমসহ এক তারকা হোটেলের শয়নকক্ষের আয়তন হবে ১০ বর্গমিটার। দুই তারকার ক্ষেত্রে এটি ১৮ বর্গমিটার, তিন তারকার ক্ষেত্রে ২০ বর্গমিটার, চার তারকার ক্ষেত্রে ২৪ বর্গমিটার ও পাঁচ তারকা হোটেলের ক্ষেত্রে ২৬ বর্গমিটার হতে হবে।
এক ও দুই তারকা হোটেলে ব্যাঙ্কুয়েট হল বা মাল্টিপারপাস হল না থাকলেও চলবে। তবে তিন তারকা হোটেলের ক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কমপক্ষে ১৫০ আসন বিশিষ্ট ব্যাঙ্কুয়েট হল সুবিধা, চার তারকা হোটেলের ক্ষেত্রে ৩০০ আসন বিশিষ্ট ও পাঁচ তারকা হোটেলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪০০ আসন বিশিষ্ট ব্যাঙ্কুয়েট হল থাকতে হবে। তিন তারকা হোটেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কমপক্ষে ৩০ আসনের দু’টি সভাকক্ষ, চার তারকা হোটেলে আধুনিক সুবিধাসহ ৪০ আসন বিশিষ্ট তিনটি সভাকক্ষ থাকতে হবে যা প্রয়োজন হলে ১২০ আসন বিশিষ্ট একটি কক্ষে রূপান্তর করা সম্ভব। পাঁচ তারকা হোটেলের ক্ষেত্রে ৫০ আসন বিশিষ্ট এ ধরনের তিনটি সভাকক্ষ থাকতে হবে, যেগুলো প্রয়োজনে ১৫০ আসন বিশিষ্ট কক্ষে রূপান্তর করা সম্ভব।
তিন থেকে পাঁচ তারকা মানের হোটেলে আধুনিক জিমনেসিয়াম, সুনা, স্টিম বাথ ও স্পা এবং পৃথক লাগেজ রুম, স্টোর ও সেফটি ভল্ট বা লকার, লন্ড্রি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা থাকতে হবে। চার ও পাঁচ তারকা হোটেলে সুইমিং পুল ও গাড়ি ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
রিসোর্ট: এক তারকা রিসোর্টে কমপক্ষে ১০টি, দুই তারকার ক্ষেত্রে ১৫টি, তিন তারকার ক্ষেত্রে ৩০টি, চার তারকার ক্ষেত্রে ৪০টি ও পাঁচ তারকা রিসোর্টে কমপক্ষে ৫০টি কক্ষ থাকতে হবে। তিন তারকা থেকে পাঁচ তারকা পর্যন্ত রিসোর্টগুলোর সকল কক্ষে ও কমন স্পেসে এয়ারকন্ডিশনিং ও হিটিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিন, চার ও পাঁচ তারকা রিসোর্টে হেয়ার ড্রায়ার, ওভেন ও সমজাতীয় অন্যান্য ব্যবস্থা, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে বিল দেওয়ার ব্যবস্থা, বুফে ব্যবস্থায় সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার ও মিনি রেফ্রিজারেটর (ছোট ফ্রিজ), প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক ঠা-া ও গরম পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
দুই তারকা মানের রিসোর্টে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। তিন, চার ও পাঁচ তারকা রিসোর্টে কনফারেন্স কক্ষসহ প্রতিটি কক্ষে ও উন্মুক্ত স্থানে ওয়াই-ফাইসহ তারযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ, ফ্যাক্স, ফটোকপিয়ার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ বিজনেস সেন্টার থাকতে হবে। এসব রিসোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, অনলাইন রিজার্ভেশন ও বুফে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুই তারকা রিসোর্টে কমপক্ষে ১০টি, তিন তারকার ক্ষেত্রে ২০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চার তারকা রিসোর্টে মিনি ও বড় বাসসহ কমপক্ষে ৩০টি ও পাঁচ তারকা রিসোর্টে ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
