দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য বুঝতে যেকোনো বিষয়ে প্রতিবছর শুমারি জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোয় (বিবিএস) কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারা দেশে শহর ও পল্লী এলাকায় ‘কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি ২০১৮’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কৃষি শুমারি ২০১৯ পরিচালনা করতে যাচ্ছে। এটি দেশব্যাপী বৃহৎ আকারে পরিচালিত অন্যতম পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম। প্রতি ১০ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ৯ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে মাঠপর্যায়ে শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন আমাদের প্রয়োজন উন্নত প্রজাতির মাছ ও সবজি। যাতে পুষ্টির কোনো অভাব না থাকে।
জরিপকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সুচারুরূপে, সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে করে বিশ্বমানের একটি কাজ হয়। এ জন্য আমাদের সরকারের যা যা করা দরকার, আর্থিক, সাংগঠনিক, প্রাতিষ্ঠানিক–সবকিছু প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেবেন। তিন মাসের মধ্যে শুমারির প্রাথমিক ফল এবং ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। এই শুমারিতে কোনো অসংগতি চোখে পড়লে তা তুলে ধরার জন্যও অনুরোধ জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
এম এ মান্নান বলেন, জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এটা আরও বাড়াতে হবে। ধানের ক্ষেত্রে অবদান কমলেও মাছ, সবজি, ফলের ক্ষেত্রে অনেক বাড়বে। তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য বোঝার জন্য কিছুদিন পরপর শুমারি করতে হয়। আমরা জনশুমারি করি, এটা অর্থনৈতিক শুমারি। এখান থেকে বুঝতে পারব, ধান, গম, পাট, ফল, মাছ, গরু, মোষ, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, টার্কি কত হচ্ছে। গোটা অর্থনীতির অবস্থানও বুঝতে পারব।
কৃষি শুমারি প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জাফর আহাম্মদ খান জানান, কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খামারের সংখ্যা, আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরন, চাষপদ্ধতি, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদসংক্রান্ত তথ্য এবং কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্য-উপাত্ত কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা দেশব্যাপী বৃহৎ আকারে পরিচালিত একটি পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম।
কৃষি শুমারিতে একজন প্রধান শুমারি সমন্বয়কারী, একজন জাতীয় শুমারি সমন্বয়কারী, একজন অতিরিক্ত জাতীয় শুমারি সমন্বয়কারী, ১০ জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী, ৯০ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী (ডিসিসি), ৪৯২ জন উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী (ইউসিসি), ২ হাজার ১২৭ জন জোনাল অফিসার, ২৩ হাজার ১৬৫ জন সুপারভাইজার ও ১ লাখ ৪৪ হাজার ২১১ জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বিকাশ কিশোর দাস, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহারিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. কৃষ্ণা গায়েন।
