আমার হয়তো কোনো দোষ ছিল না, তবুও ক্ষমা চেয়েছি: মাহতিম শাকিব

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ১১:৩৯ পিএম

বাংলা ক্ল্যাসিক গান কাভার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পান মাহতিম শাকিব। মৌলিক কিছু গানেও শোনা গেছে তাকে। এবার তার বিরুদ্ধে  শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ উঠল। মাহতিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে নাগরিক টিভি। জানা যায়, এক মাস ধরে নাগরিক টিভির পর্দায় প্রচারণা চলেছে- ঈদের পঞ্চম দিন মাহতিম শাকিব ও ইমরান হোসেন যৌথভাবে সরাসরি অনুষ্ঠান ‘গানের মেলা’য় অংশ নেবেন। কিন্তু একদিন আগে ‘বুকের বাঁ পাশে’ গায়ক নাগরিক টিভিকে জানান, তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। কারণ বগুড়ার একটি শো হাতে নিয়েছেন এবং সেখানে অনেক টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। অভিযোগ জানিয়ে গণমাধ্যমে ইমেইল পাঠান টেলিভিশন চ্যানেলটির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু।

অভিযোগ করে কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘মাহতিম শাকিব এক মাস আগে ইমরানসহ নাগরিকের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দিনক্ষণ ও পারিশ্রমিক চূড়ান্ত করেন। অথচ একদিন আগে রাত একটার সময় জানান, বগুড়ার একটি শো হাতে নিয়েছেন।’

মাহতিম শাকিবের বিরুদ্ধে নাগরিক টিভির শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় মাহতিমের  সঙ্গে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে মুঠোফোনে মাহতিম জানালেন ঘটনার বিস্তারিত।

নাগরিক টিভি অভিযোগ করেছে আপনি শিডিউল ফাঁসিয়েছেন। আসলে কী ঘটেছিল?

এমন তো না যে নাগরিক টেলিভিশনের সঙ্গে আমার শত্রুতা আছে বা অন্য কিছু। মাঝখানে বড় একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে।

ভুল বোঝাবুঝি কী নিয়ে?

মাস খানিক আগে কামরুজ্জামান বাবু ভাই ফোন দিয়েছিলেন। ঈদের জন্য নাগরিক টিভিতে একটা শো করব। তুমি করতে পারবে কিনা? আমি সম্মতি জানালে উনি আমার বাজেট জানতে চান। আমার বাজেট শুনে উনি বললেন টিভি প্রোগ্রামের বাজেট তো কম। পরে আমি বললাম যে ঠিক আছে আমাকে কোনো পেমেন্ট দিতে হবে না। আমি কোনো পেমেন্ট নেব না। আমি তেমন কিছু নেব না। কারণ টেলিভিশন চ্যানেলটার প্রধান হচ্ছেন আবদুন নূর তুষার স্যার। উনি আমার একটা কমপিটিশনের বিচারক ছিলেন। তো আপনারা যদি পারেন আমার সঙ্গে যে মিউজিশিয়ানরা যাবে তাদের পেমেন্টটা দিয়ে দিয়েন। উনি বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে- সেটা নিয়ে সমস্যা হবে না।’ তার দুয়েকদিন আগে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল যে ঈদের ৫ম দিন আমি ফ্রি কিনা। সেদিন শো করতে পারব কিনা। তো আমি দেখলাম নাগরিক টিভির প্রোগ্রাম যেহেতু ঈদের ৬ষ্ঠ দিন ফলে ঈদের ৫ম দিন বগুড়ায় যেতে কোনো সমস্যা হবে না। যদি সেদিন সকালেও নাগরিকের রেকর্ডিং থাকে তাহলেও প্রবলেম হবে না। কারণ শো শেষ করে রাতেই ফিরে আসতে পারব। ফলে বগুড়ার শোও কনফার্ম করি।

এদিকে নাগরিক টিভিতে একটা বাইট দেওয়ার কথা ছিল। বাইটটা এরকম-  ‘আমি মাহতিম শাকিব, আমি আসছি নাগরিক টিভিতে’। কিন্তু যেদিন বাইটটা নেওয়া হবে সেদিন আমি নাগরিক টিভিতে যাই। প্রায় এক দেড় ঘণ্টা বসেও থাকি বাইট দেওয়ার জন্য। যিনি বাইট নেবেন উনি নাকি সেদিন আসেননি। এরপর আমি এক দেড় ঘণ্টা পর চলে আসি। বের হয়ে যাওয়ার পর আর কখনো আমার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেনি। আমিও ভেবেছিলাম তারা হয়তো আমাকে নিচ্ছে না বলেই যোগাযোগ করেনি। আমি কোনো কিছু বলিনি।

তো এরপর যখন মিউজিশিয়ানদের পেমেন্ট করার কথা ছিল, সেদিন তারা আমাকে ফোন করে। এরপর আমিও বাবু ভাইকে ফোন করি। আমি বললাম যে, বাবু ভাই প্রোগ্রামটা কি হবে? আমার আরও শো’র কল আছে? উনি বললেন যে ‘হ্যাঁ, প্রোগ্রামটা হবে সবকিছু ঠিক আছে।’ আমি জানতে চাইলাম, প্রোগ্রাম ঈদের ৬ষ্ঠদিনই তো? উনি জবাবে বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঈদের ৬ষ্ঠদিনই। কোনো সমস্যা নাই।’ তারপর আমিও অ্যাডভান্স পেমেন্ট নিয়ে নিই। সবকিছু ঠিকই ছিল।  কিন্তু পরশু দিন রাতে হঠাৎ করে একটা কল পেলাম। ফোনটা ইমরান জন ভাইয়ের। আমার সঙ্গে উনার পারফর্ম করার কথা ছিল। তো ইমরান ভাই আমাকে ফোন করে বললেন ‘মাহতিম কি সমস্যা চলছে বলতো। তুই নাকি কালকে অন্য জায়গায় শো নিয়েছিস?’ আমি বললাম হ্যাঁ। উনি  বলল যে ‘নাগরিকের শোও তো কালকে।’ আমি বললাম, না নাগরিকের শো তো পরশু দিন। তখন উনি বললেন যে না ‘ঈদের ৫ম দিনই শো। আমাকে নাগরিক থেকে জ্যোতি ভাই ফোন দিচ্ছে সে জানতে চাচ্ছে। ওরা তো খেপে গেছে।’

পরে আমি বাবু ভাইকে ফোন দিয়ে বললাম যে, আমি তো জানি ৬ষ্ঠ দিনই প্রোগ্রাম। আর আমি তো মাঝে আপনাদের বাইট দেওয়ার জন্যও গিয়েছিলাম। তখন তো বাইট নেননি। তখন বাইট নিলে হয়তো এই পরিবর্তনের কথাটা জানতে পারতাম। যে শো’টা কবে? ভাই আমি তো ওখান থেকে পেমেন্টও নিয়ে নিয়েছি। এখন শো’টা কি করব। প্রথমত এটা আর্মির শো। দ্বিতীয়ত আমি অ্যাডভান্স পেমেন্ট নিয়ে নিয়েছি। এখন পেমেন্ট যদি ফেরত দিতে হয় সেই টাকাটাও তো আমার কাছে নেই। পরে উনারা বললেন যে ‘যেভাবেই হোক শো’টা ক্যান্সেল করো। আমরা বিপদে পরে যাব।’  উনি আরও নানা কিছু বললেন। বিশেষ করে ‘তোমার কমিটমেন্টের কোনো দাম নাই- এইসব। পরে আমি বললাম যে, আমার একজন মিউজিক কম্পোজারকে কিছু টাকা দিতেই হবে । আমি যে পেমেন্ট পাব সেই পেমেন্টের পুরোটাই উনাকে দিয়ে দিতে হবে। কারণ উনি যাবেন চিকিৎসার জন্য।  ওনার চিকিৎসাটা সবার আগে। ফলে বগুড়ার শো’ তো আমার পক্ষে ক্যান্সেল করা সম্ভব না। তখন বাবু ভাই বলেছেন, ‘ঠিক আছে তাহলে তোমার কিছু ইয়ে করার দরকার নাই। আমি পরে দেখব।’ তারপর গতকাল হঠাৎ করে দেখলাম উনি সাংবাদিকদের কাছে আমার নামে অভিযোগ করে মেইল পাঠাচ্ছেন।

মেইল পাঠানোর পর ওনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন?

হ্যাঁ, আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত একটি মেসেজ পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন আর কি হবে। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। এই ঘটনায় আমার যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে সেটা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন।  এখন এটা কপালে ছিল। এটা নিয়ে করার কিছু নেই। এখানে আমার হয়তো কোনো দোষ ছিল না। তারপরও আমি ওনাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। অনুরোধ করেছি ‘ভাইয়া, আমাকে ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখবেন।’ এগুলো না করার জন্য অনুরোধ করেছি। তারপরও তারা এটা করেছে।

সমাধান কোথায়?

এখন আমার করার কিছু নেই। এই ঘটনার কারণে হয়তো টিভি চ্যানেলগুলো আমাকে নাও ডাকতে পারে। ১২ বছরের সাধনা করে এত দূর এসে হঠাৎ এভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে তা ভাবিনি। এই ঘটনায় আমার যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে তাতে  আমি হয়তো ক্যারিয়ারে অনেক পিছিয়ে যাব। তবে যাই হোক, আমি যেহেতু ইউটিউব বা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম থেকে এসেছি সে ক্ষেত্রে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়াতেই নিজের চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত